বারুইপুরের নাবালিকা হত্যাকাণ্ডে আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর ফলে এই মামলায় গ্রেফতারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল দুই। পাশাপাশি আরও তিন জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
রবিবার প্রথম অভিযুক্তকে গ্রেফতারের পর রাতভর তল্লাশি অভিযান চালায় পুলিশ। সেই অভিযানে দ্বিতীয় অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয় এবং আরও তিন জনকে আটক করা হয়। প্রথম গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্তকে সোমবার বারুইপুর আদালতে তোলা হবে।
আরও পড়ুন:
শনিবার থেকে নিখোঁজ থাকার পর রবিবার সকালে একটি পুকুর থেকে ১২ বছরের কিশোরীর দেহ উদ্ধার হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। জনরোষের মুখে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগও উঠেছে। ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যেই ছয় সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে।
ঘটনায় এ পর্যন্ত তিনটি পৃথক মামলা দায়ের হয়েছে। একটি নাবালিকা হত্যার অভিযোগে, একটি গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় এবং আরেকটি পুলিশের উপর হামলার অভিযোগে।
নিহত কিশোরীর পরিবারের দাবি, তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। তবে পুলিশ এখনও এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু জানায়নি। রবিবার রাতেই দেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। তদন্তকারীদের বক্তব্য, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর কারণ এবং যৌন নির্যাতনের অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা মিলবে। সেই অনুযায়ী পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে কিশোরীর বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলে নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি নিহতের পরিবারকে মঙ্গলবার ভবানীভবনে দেখা করার জন্যও ডেকেছেন। আইজি (প্রেসিডেন্সি রেঞ্জ) কঙ্করপ্রসাদ বারুই জানিয়েছেন, ঘটনায় জড়িত কাউকেই রেয়াত করা হবে না।
অন্যদিকে, রবিবার রাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়ির সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারুইপুরে যেতে চেয়েছিলেন এবং তাঁকে আটকাতেই পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। যদিও প্রশাসনের তরফে এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি। একই রাতে নিহত কিশোরীর পরিবারের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন।