দেবশ্রী মজুমদার:  বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির এক অনন্য ঐতিহ্য শান্তিনিকেতনের বাটিক জিআই স্বীকৃতি অর্জন করেছে। এই স্বীকৃতির ফলে শান্তিনিকেতনের বাটিক শিল্পের মৌলিক পরিচয় আইনগত সুরক্ষা পেল এবং দেশ-বিদেশে এর স্বাতন্ত্র্য ও মর্যাদা আরও সুদৃঢ় হলো। এর মাধ্যমে শুধু একটি শিল্পরীতির স্বীকৃতিই নয়, শান্তিনিকেতনের শিল্প-ঐতিহ্য, শিল্পীদের দীর্ঘদিনের সাধনা এবং বিশ্বভারতীর সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারও নতুনভাবে সম্মানিত হল। 
শান্তিনিকেতনের বাটিকের বিশেষত্ব হলো মোম ব্যবহার করে কাপড়ের নির্দিষ্ট অংশ ঢেকে রেখে ধাপে ধাপে রং করার অভিনব পদ্ধতি।

এর ফলে কাপড়ে তৈরি হয় স্বতন্ত্র নকশা, সূক্ষ্ম রেখা এবং শিল্পসম্মত ফাটল, যা অন্য বাটিক শিল্প থেকে একে আলাদা পরিচয় দেয়। প্রকৃতি, গ্রামীণ জীবন, আলপনা, ফুল, পাখি, লোকশিল্প এবং রবীন্দ্রভাবনার নানান অনুষঙ্গ এই শিল্পে বিশেষভাবে প্রতিফলিত হয়।
জিআই স্বীকৃতির ফলে এখন থেকে ‘শান্তিনিকেতনের বাটিক’ নামে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চলে ঐতিহ্যগত পদ্ধতিতে নির্মিত বাটিক পণ্যই বাজারজাত করা যাবে। এতে নকল পণ্যের দৌরাত্ম্য কমবে, প্রকৃত শিল্পীরা তাঁদের ন্যায্য স্বীকৃতি ও অর্থনৈতিক সুবিধা পাবেন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে শান্তিনিকেতনের বাটিকের গ্রহণযোগ্যতা আরও বৃদ্ধি পাবে।

শান্তিনিকেতনের বাটিক কেবল একটি হস্তশিল্প নয়, এটি বাংলার সৃজনশীলতা, নন্দনতত্ত্ব এবং রবীন্দ্র-দর্শনের এক উজ্জ্বল বহিঃপ্রকাশ। জিআই স্বীকৃতি সেই ঐতিহ্যকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সংরক্ষণ ও বিশ্বমঞ্চে আরও সুপ্রতিষ্ঠিত করার পথে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
বিশ্বভারতী তরফে বিশ্বভারতী জনসংযোগ আধিকারিক অতীগ ঘোষ জানান, এই স্বীকৃতি গৌরবের। কবিগুরু হ্যাণ্ডলুম মার্কেটের আমিনুল হোদা এই খবরে খুবই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।