পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ এবার এবার জিআই ট্যাগ পেতে চলেছে পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলীর কাঠের পুতুল। স্থানীয় শিল্পীরা অনেক দিন ধরেই এই দাবি জানিয়ে আসছিলেন। ফলে এই পণ্য জিআই ট্যাগ পেতে চলায় স্বাভাবিকভাবেই খুশির হাওয়া সেখানকার কাঠপুতুলের সঙ্গে যুক্ত শিল্পী ও ব্যবসায়িক মহলে। এরফলে কাঠপুতুলের খ্যাতি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। 
কয়েকদিন আগেই হুগলির জলভরা সন্দেশ, মনোহরা মিষ্টি, বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের দশাবতার জিআই তকমা পেয়েছে।

এখন পূর্বস্থলীর কাঠের পুতুল স্বীকৃতি পেলে শিল্পীরা আশা করছেন, তাঁদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হবে। একইসঙ্গে, নতুন প্রজন্ম এই শিল্পে আগ্রহ দেখাবে।  কালনা মহকুমার অন্তর্গত পূর্বস্থলীর নতুনগ্রাম বা কাঠপুতুলের গ্রাম। সেখানে শিল্পীদের হাতের ছোঁয়ায় তৈরি হয় রঙিন কাঠের পেঁচা, গৌর-নিতাই মূর্তি এবং নানা ধরনের ঐতিহ্যবাহী কাঠের পুতুল। এখনও বংশ পরম্পরায় এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রেখেছেন এখানকার কাঠ পুতুল শিল্পীরা।
সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পুতুলের নকশায় বদল আনা হলেও তার পরিচয় ঐতিহ্যবাহী কাঠের পুতুল।
এখানকার শিল্পীরা দীর্ঘদিন ধরেই এই শিল্পের জন্য জিআই তকমার জন্য দাবি জানিয়ে আসছেন। এই স্বীকৃতি মিলতে চলায় আশার আলো দেখছেন শিল্পীরা। তাঁদের মতে, এরফলে শিল্পের প্রসার যেমন বাড়বে তেমনি নকল পণ্যের বিরুদ্ধে মিলবে আইনি সুরক্ষা। দেশ বিদেশের বাজারে এর চাহিদা বাড়বে।
আর আর্থিক অবস্থার উন্নতি হলে নতুন প্রজন্ম এই শিল্পে আগ্রহ দেখাবে।
জানা যাচ্ছে, ১৫ টি ঐতিহ্যবাহী পণ্যের জন্য আবেদন জানানো হয়েছে জিআই ট্যাগের স্বীকৃতি পেতে। তবে ইতিমধ্যেই ১২ টি স্বীকৃতি পেয়েছে। বাকি তিনটির ক্ষেত্রে দ্রুত স্বীকৃতি মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে। এগুলি নিয়ে আবেদন করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গ আইন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপার্টি রাইটস চেয়ার প্রফেসর পিনাকী ঘোষ এবং তাঁর সহকারী গবেষক দল। এছাড়াও সহযোগিতা করেছেন বীরভূমের বাসিন্দা অধ্যাপক শুভদীপ মণ্ডল। তিনি জানান, এরফলে ঐতিহ্য সংরক্ষণ যেমন সম্ভব হবে, তেমনি কারিগরদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও ব্যবসার বাজার সম্প্রাসণ সম্ভব হবে।