পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে প্রায় দেড় হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এখনও ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে চলছে প্রাণের খোঁজ। তারমধ্যেই এবার ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার হল ১৮ দিন বয়সী নবজাতক সহ তার মা। এক মায়ের গল্প দেশজুড়ে আশার প্রতীক হয়ে উঠেছে। দায়ানা পাতিনো নামের ওই মহিলা জানিয়েছেন, তার নবজাতক সন্তানই তাকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসার শক্তি জুগিয়েছে।
আরও পড়ুন:
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দায়ানা বলেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকার পুরো সময়জুড়ে সন্তানের অস্তিত্বই তাকে বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা দিয়েছে। তার কথায়, “যতক্ষণ আমার সন্তান বেঁচে ছিল, ততক্ষণ আমিও বেঁচে থাকার সাহস পেয়েছি। সে শ্বাস নিচ্ছে কি না, তা বুঝতে বারবার তার নাকের কাছে হাত রাখতাম।
” ভেনেজুয়েলার উত্তরাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকা লা গুয়াইরার একটি বহুতল ভবনের অষ্টম তলার ফ্ল্যাটে ছিলেন দায়ানা। ভূমিকম্পের সময় তিনি বাড়ির কাজ করছিলেন। প্রথমে সামান্য কম্পন মনে হলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই ভবনটি ধসে পড়ে।আরও পড়ুন:
দায়ানা জানান, মুহূর্তের মধ্যে তিনি নিজেকে শূন্যে ভাসতে দেখেন। এরপর ধুলো, ধ্বংসাবশেষ ও ভাঙা আসবাবের মধ্যে গভীর গর্তে পড়ে যান। কীভাবে সন্তানকে আঁকড়ে ধরে রেখেছিলেন, তা এখনও তার কাছে বিস্ময়ের বিষয়। ধ্বংসস্তূপের নিচে পড়ে প্রথমে সাহায্যের জন্য চিৎকার করলেও পরে বুঝতে পারেন বাইরে থেকে কেউ তার কণ্ঠস্বর শুনতে পাচ্ছে না। তাই শক্তি সঞ্চয় করে আশপাশে মানুষের শব্দ পেলেই কেবল সাহায্যের জন্য ডাকতে থাকেন।
এ সময় তার বাম পা কংক্রিটের নিচে আটকে যায় এবং মাথার একপাশ পাথরের চাপে থাকে। এমন কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও একটি ধর্মীয় গ্রন্থ খুঁজে পেয়ে তিনি নতুন করে আশা ফিরে পান।আরও পড়ুন:
দায়ানা বলেন, “সেখান থেকেই আমার বেঁচে থাকার সংগ্রাম নতুন করে শুরু হয়েছিল।”ধ্বংসস্তূপের অন্ধকারের মধ্যে ওপরে থেকে আসা সামান্য আলোর রেখা তাকে সাহস জুগিয়েছে। একপর্যায়ে তিনি নিজের ভাইয়ের কণ্ঠস্বর শুনতে পান। তখন সমস্ত শক্তি দিয়ে চিৎকার করে নিজের অবস্থানের কথা জানান। দায়ানা বলেন, “আমি বুঝেছিলাম এটাই হয়তো শেষ সুযোগ। তখন প্রাণপণ চিৎকার করে বলেছিলাম, আমি এখানে আছি।
আমার ভাই বলেছিলেন, তোমাদের খুঁজে পেয়েছি, উদ্ধার না করে আমি কোথাও যাব না।” পরবর্তীতে দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ উদ্ধার অভিযানের মাধ্যমে রাতে মা ও শিশুকে ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত বের করে আনা হয়। এ ঘটনায় দায়ানার দুই পায়ে আঘাত লাগলেও তার ১৮ দিন বয়সী সন্তান হুয়ান দাভিদ সামান্য আহত হয়েছে।আরও পড়ুন:
অন্যদিকে ভূমিকম্পের সময় বাড়ির বাইরে থাকায় দায়ানার স্বামী গেরসন প্রাণে বেঁচে যান। ভবন ধসে পড়ার দৃশ্য দেখে স্ত্রী ও সন্তানের জীবিত থাকার আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন তিনি। পরে তাদের উদ্ধার হওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাটিকে অলৌকিক বলে বর্ণনা করেন। গেরসন বলেন, “আমি ভেবেছিলাম তারা আর বেঁচে নেই। যখন ছেলেকে জীবিত দেখলাম, মনে হলো যেন নতুন করে জীবন ফিরে পেয়েছি।”