পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা। বুধবার সন্ধ্যায় (স্থানীয় সময়) দেশটির উত্তর উপকূলে আঘাত হেনেছে পরপর দুটি অত্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকম্প, যা ভূবিজ্ঞানের ভাষায় ‘ডাবলেট’ বা জোড়া ভূমিকম্প নামে পরিচিত। এই জোড়া ধাক্কায় লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা। প্রশাসনের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখনও পর্যন্ত অন্তত ২৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ১,৫০০-রও বেশি মানুষ। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির জেরে দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ।
আরও পড়ুন:
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা এই জোড়া ভূমিকম্পের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, এর ফলে ব্যাপক প্রাণহানি এবং পরিকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। সংস্থাটির প্রাথমিক অনুমান, পরিস্থিতি আরও খতিয়ে দেখলে এই দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা শেষ পর্যন্ত ১০,০০০ থেকে ১,০০,০০০ (এক লক্ষ) পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
আরও পড়ুন:
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, সাধারণত কোনো বড় ভূমিকম্পের পর ছোট ছোট আফটারশক বা অনুকম্পন হয়। কিন্তু এই ক্ষেত্রে প্রায় সমমাপের দুটি প্রধান ভূকম্পন অত্যন্ত কাছাকাছি সময়ে এবং একই ভৌগোলিক এলাকায় আঘাত হেনেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার ইউএসজিএস আর্থকোয়েক সায়েন্স সেন্টারের ডিরেক্টর ক্রিস্টিন গুলেট সংবাদসংস্থা এপি-কে জানিয়েছেন, এই ধরণের ঘটনাকে ‘ডাবলেট’ বলা হয়।
বিশ্বজুড়ে এটি খুব বেশি সাধারণ না হলেও যেকোনো জায়গায় ঘটতে পারে।আরও পড়ুন:
ভূমিকম্পের তীব্রতায় রাজধানী কারাকাসসহ ভেনেজুয়েলার উত্তর উপকূলের বহু বহুতল ভবন ও ঘরবাড়ি তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে। ধসে পড়া আবাসনগুলির নিচে বহু মানুষ আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দুর্গত এলাকায় সেনা ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ শুরু করেছে। হাসপাতালগুলিতে আহত মানুষের ভিড় উপচে পড়ছে। ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ দেশবাসীকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এবং উদ্ধারকাজে গতি আনতে সব রাষ্ট্রীয় সংস্থাকে নির্দেশ দিয়েছেন।