পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: ভেনেজুয়েলা থেকে উত্তরপ্রদেশে ফেরত পাঠানো এক ভারতীয় নাবিকের মৃতদেহ ঘিরে চরম রহস্য এবং চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। রাকেশ চৌহান নামের ওই ভারতীয় নাবিকের রহস্যমৃত্যুর পর তাঁর মরদেহ ভেনেজুয়েলা থেকে উত্তরপ্রদেশে তাঁর দেশের বাড়িতে পাঠানো হয়। কিন্তু ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো অফিসিয়াল ময়নাতদন্তের রিপোর্ট বা মৃত্যুর কারণ সংক্রান্ত বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। এরপর পরিবারের সন্দেহের ভিত্তিতে ভারতে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত করতেই চিকিৎসকদের চোখ চড়কগাছ।
দেখা গেছে, মৃতদেহের ভেতর থেকে সমস্ত প্রধান অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ গায়েব করে দেওয়া হয়েছে।ভারতের ফরেনসিক চিকিৎসকদের করা দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানা গেছে, রাকেশ চৌহানের মৃতদেহে মস্তিষ্ক, হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, লিভার, কিডনি, প্লীহা, অগ্ন্যাশয়, পাকস্থলী এবং অন্ত্রের মতো কোনো প্রধান অঙ্গই অবশিষ্ট নেই। শুধু তাই নয়, থাইরয়েড, হাইওয়েড হাড়, ল্যারিঙ্কস এবং শ্বাসনালীর মতো ভেতরের সংবেদনশীল কাঠামোও শরীর থেকে কেটে নেওয়া হয়েছে। রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মৃতদেহে ব্যাপক সেলাইয়ের দাগ রয়েছে। গলা থেকে তলপেট পর্যন্ত একটি দীর্ঘ অংশ কাটার পর সেলাই করা রয়েছে এবং মাথার চারপাশ জুড়েও অতিরিক্ত সেলাইয়ের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মৃত্যুর আগে শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। কিন্তু যেহেতু শরীরের সমস্ত প্রধান অঙ্গপ্রত্যঙ্গই উধাও, তাই এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে রাকেশের মৃত্যুর আসল কারণ কী ছিল, তা কোনোভাবেই নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। এছাড়া ভেনেজুয়েলা থেকে ভারতে পাঠানোর আগে মৃতদেহটিকে প্রায় এক মাস ধরে ‘ডিপ ফ্রিজে’ রাখা হয়েছিল বলে জানা গেছে।