পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: পাসপোর্ট নবীকরণ নিয়ে চলমান বিতর্কের মাঝেই এক চাঞ্চল্যকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনীতি বিতর্ক। ভোটার তালিকা সংশোধনের (এসআইআর) জেরে তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ায় ‘দ্য টেলিগ্রাফ’ পত্রিকার প্রাক্তন সম্পাদক আর রাজাগোপালের পাসপোর্ট নবীকরণের আবেদন আটকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রশাসনের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার জেরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিজের মেয়ের বিয়েতেও উপস্থিত থাকতে পারেননি ওই প্রখ্যাত সাংবাদিক। এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে মোদি সরকার এবং আমলাতন্ত্রকে একযোগে নিশানা করেছে দেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। পাশাপাশি, ‘এডিটরস গিল্ড অফ ইন্ডিয়া’ রবিবার একটি কড়া বিবৃতি জারি করে বর্ষীয়ান এই সাংবাদিকের প্রতি প্রশাসনের এই ধরণের আচরণের তীব্র নিন্দা করেছে।

সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে সাংবাদিক আর রাজাগোপাল জানান, তাঁর পাসপোর্ট সচল না থাকায় তিনি আমেরিকায় নিজের মেয়ের বিয়েতে যোগ দিতে পারেননি।

গত এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে কলকাতার বালিগঞ্জ থানা থেকে পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য তাঁকে ডাকা হয়েছিল। ঘটনার বিবরণ দিয়ে রাজাগোপাল সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "পুলিশকর্মী আমাকে সমস্ত নথিপত্র সঙ্গে নিয়ে থানায় যেতে বলেন। আমি যখন জানতে চাই কোন নথি লাগবে, তিনি বলেন, ‘ভোটার আইডি কার্ড’। তখন আমি তাঁকে জানাই, গত ২৭ মার্চ ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমার নাম ইতিমধ্যেই ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।"

নাম বাদ পড়ার কারণে পুলিশ ভেরিফিকেশনে ‘প্রতিকূল রিপোর্ট’ জমা পড়ে, যার ফলে গত ১০০ দিন ধরে তাঁর পাসপোর্ট নবীকরণ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ আটকে রয়েছে। আগামী ১৭ জুলাই তাঁকে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে হাজির হওয়ার দিন দেওয়া হয়েছে।

কলকাতা পুলিশের এক শীর্ষ কর্তা নিশ্চিত করেছেন, পুলিশ ভেরিফিকেশন সফল না হওয়ায় ফাইলটি এখন আরপিও-র কাছেই বিচারাধীন রয়েছে।

এই ঘটনা সামনে আসতেই তৃণমূল কংগ্রেস, কংগ্রেস, সিপিআই এবং সিপিআই(এম)-এর মতো দলগুলি একযোগে সুর চড়িয়েছে। তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ লেখেন, "দ্য টেলিগ্রাফের মতো নামী পত্রিকার প্রাক্তন সম্পাদকের সঙ্গে যদি এমনটা হতে পারে, তবে সাধারণ মানুষের অবস্থা কী হচ্ছে তা সহজেই অনুমেয়। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ, ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া, এবং এর জেরে ১০০ দিন ধরে পাসপোর্ট আটকে রাখায় তিনি নিজের মেয়ের বিয়েতেও যেতে পারলেন না। আর এর পরই সরকার বলছে পাসপোর্ট নাকি নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়! মৌলিক নাগরিক অধিকারের অবক্ষয় ঠিক এই রকমই দেখতে হয়।

কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ বিবেক তানখা এই সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, "এখন যদি কেউ আমাকে আমার বাবার ম্যাট্রিকুলেশন সার্টিফিকেট আনতে বলে, আমি তা খুঁজে পাব না। আমার বয়স ৬৯ বছর, আমার নিজের সার্টিফিকেটও হয়তো বার কাউন্সিলে জমা আছে। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার সাথে পাসপোর্টের কী সম্পর্ক?"

সিপিআই-এর পি সন্দেশ কুমার বলেন, "ভারত কোনো সঙ্ঘ পরিবারের কার্যালয় নয়। রাজাগোপালের এই অভিজ্ঞতা আমাদের চোখ খুলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।" গোটা ঘটনায় আমলাতন্ত্রের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছে এডিটরস গিল্ড অফ ইন্ডিয়া। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "যাঁরা দেশের আমলাতন্ত্রে বসে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন যে কে ভারতের নাগরিক আর কে নন—রাজাগোপালের প্রতি তাঁদের এই আচরণের আমরা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।"