পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: তেলেঙ্গানায় ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (এসআইআর) প্রক্রিয়া শুরু হতেই রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। বুথ স্তরের আধিকারিকদের বাড়ি বাড়ি পরিদর্শন পর্ব শুরু হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে, বুধবার রাতে এক জরুরি ও উত্তপ্ত বৈঠক করেন তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী তথা কংগ্রেস নেতা এ রেবন্ত রেড্ডি। এই প্রক্রিয়ায় সামান্যতম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না বলে নিজের মন্ত্রী, বিধায়ক এবং দলীয় নেতাদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

তেলেঙ্গানার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক সি সুদর্শন রেড্ডি গত সপ্তাহে জানিয়েছিলেন, মূল প্রক্রিয়া শুরুর আগের একটি প্রাথমিক স্তরের সমীক্ষায় রাজ্যের প্রায় ৮৮ লক্ষ ভোটারের তথ্যে নানা অমিল ও অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। এই বিপুল সংখ্যক ভোটারের নথিতে ভুল থাকার বিষয়টি সামনে আসার পর থেকেই রাজ্যের শাসকদল কংগ্রেস সহ বিআরএস এবং মিমের মতো বিরোধী দলগুলিও চরম সতর্কতা অবলম্বন করছে।

বুধবার রাতের অনলাইন বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দলের কিছু মন্ত্রী, সাংসদ এবং বিধায়কেরা এই সংশোধন প্রক্রিয়াটিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন না। তিনি সতর্ক করে দেন যে, এই উদাসীনতা রাজ্যে কংগ্রেসের বড় ক্ষতি করতে পারে। আসল ও বৈধ ভোটারদের নাম যাতে তালিকা থেকে বাদ না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেন তিনি। জেলাভিত্তিক সচেতনতা সভার রিপোর্ট হাতে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "এই সংশোধন প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত গুরুতর একটি বিষয়। কিছু নেতা এতে চরম অবহেলা করছেন।

দল ক্ষতিগ্রস্ত হলে আমি নীরব দর্শক হয়ে থাকব না। যারা গুরুত্ব দেবেন না, সেই জেলা ইন-চার্জদের সরিয়ে দেওয়া হবে।"

মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, এই প্রক্রিয়ার সময় দরিদ্র মানুষের ভোটাধিকার রক্ষা করা সবচেয়ে জরুরি। কারণ, দরিদ্র মানুষ যদি তাঁদের ভোটাধিকার হারান, তবে এর জেরে তাঁদের আধার কার্ড বা রেশন কার্ডের মতো অন্যান্য জরুরি সরকারি পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও সংকট তৈরি হতে পারে। আগামী ১০ দিন সমস্ত ইন-চার্জদের পারফরম্যান্সের ওপর কড়া নজর রাখা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।