পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: উৎসবের আবহে বিষাদের সুর। বৃহস্পতিবার রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় ভোট দিয়ে বেরোনোর পরই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন এক মহিলা ভোটার। ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কেশপুর বিধানসভার দিঘা বুথে। মৃতের নাম ইসরাতন বিবি (৫০)। এই মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া পরিবারে।

 

কেশপুরের সীমাগেরিয়ার বাসিন্দা ইসরাতন বিবি বৃহস্পতিবার সকালে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে বুথে গিয়েছিলেন। ভোট দিয়ে বেরোনোর কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন এবং পরে তাঁর মৃত্যু হয়। পরিবারের সদস্যদের দাবি, গত কয়েক মাস ধরে প্রচণ্ড মানসিক উদ্বেগের মধ্যে ছিলেন ইসরাতন। তাঁর স্বামী শেখ নবাবজান আলির নাম নির্বাচন কমিশনের ‘এসআইআর’ (SIR) প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছিল। শুধু স্বামী নন, পরিবারের বাকি সদস্যদের নামও তালিকা থেকে উধাও হয়ে যাওয়ায় ভিটেমাটি হারানোর এক গভীর আতঙ্ক গ্রাস করেছিল তাঁকে।

পরিবারের লোকজনের অভিযোগ, এই দীর্ঘদিনের ‘টেনশন’ এবং দুশ্চিন্তাই তাঁর মৃত্যুর অন্যতম কারণ।

খবর পেয়েই মৃতের বাড়িতে ছুটে যান ওই এলাকার তৃণমূল প্রার্থী শিউলি সাহা। শোকার্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। শিউলি সাহা বলেন, “এটা গণতন্ত্রের লজ্জা। পরিবারের সবার নাম কেটে যাওয়ায় ওই মহিলা প্রচণ্ড টেনশনে ছিলেন।

আজ ভোট দেওয়ার ঠিক পরেই তিনি মারা গেলেন। এর দায় নির্বাচন কমিশনকেই নিতে হবে।” তিনি সরাসরি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নাম উল্লেখ করে কড়া সমালোচনা করেন।

অন্যদিকে, তীব্র দাবদাহ আর ভোটের লম্বা লাইন আরও এক ভোটারের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে বলে খবর। পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুর বিধানসভার বামনবাড় জুনিয়ার হাইস্কুলের ২৩৪ নম্বর বুথে ভোট দিতে এসে অসুস্থ হয়ে পড়েন নৃপেন্দ্রনাথ দাস (৫৮) নামে এক ব্যক্তি। সূত্রের খবর, লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার সময় প্রচণ্ড গরমে তিনি অসুস্থ বোধ করেন এবং পরে তাঁর মৃত্যু হয়।