পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: রাজ্যে এসআইআর-এর খসড়া তালিকায় এমনকী প্রথম সাপ্লিমেন্টারি লিস্টেও নাম ছিল না কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শহিদুল্লাহ মুন্সির। আর তাঁর পরিবারের সদস্যদের নাম ‘বিচারাধীন’ দেখানো হয়েছিল। এই নিয়ে কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভপ্রকাশ করেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ও তাঁর পরিবার। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ভোটারদের নথি যাচাই করছেন জুডিশিয়াল অফিসাররা। অর্থাৎ, বিচারবিভাগের অফিসারদের হাতেই নাম বাদ বিচারপতির! এই নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। শেষপর্যন্ত অবশ্য জানা গিয়েছে, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শহিদুল্লাহ মন্সি ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, দ্বিতীয় তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত হয় বিচারপতি মুন্সি ও তাঁর পরিবারের।

উল্লেখ্য, এ পর্যন্ত চতুর্থ অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করেছে কমিশন। 
 

পরিবার সূত্রে খবর, বিচারপতি মুন্সি, তাঁর স্ত্রী এবং ছেলেরা বিএলও’র কাছে তাঁদের নথিপত্র জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু, খসড়া তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায় তাঁদের শুনানিতে ডাকা হয়েছে। সেইমতো শুনানিতে তাঁরা উপস্থিত হয়েছিলেন এবং নথি জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু, এরপর যখন সংশোধিত তালিকাটি প্রকাশিত হয় দেখা যায়---তখন তাঁর স্ত্রী ও ছেলেদের নাম ‘বিচারাধীন’ হিসেবে দেখানো হয়। অন্যদিকে, কলকাতা হাইকোর্টের এই অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি নিজেই অবাক হয়ে যান এটা দেখে যে তালিকায় তাঁর নিজের নামটির পাশে ‘পাওয়া যায়নি’ (নট ফাউন্ড) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। 
 

বিচারপতি মুন্সি একটি আইন বিষয়ক পোর্টালকে জানান, শুনানির সময় তিনি সচেতনভাবেই নিজের পরিচয়, অর্থাৎ তিনি যে হাইকোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি তা প্রকাশ করা থেকে বিরত ছিলেন। তিনি বলেন, ‘‘আমি এমন কোনও নথিপত্র জমা দিতে চাইনি যাতে উল্লেখ থাকে যে আমি হাইকোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি।

কারণ আমি চাই আমাকে সাধারণ নাগরিকদের সমকক্ষ হিসেবেই গণ্য করা হোক। আর ঠিক এই কারণেই আমি আমার পাসপোর্টসহ যাবতীয় সঠিক নথিপত্রই জমা দিয়েছিলাম।’’ 
 

রাজ্যের আরও লক্ষ লক্ষ ভোটারের মতোই যাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, বিচারপতি মুন্সিও জানান নথিপত্র জমা দেওয়ার কোনও প্রমাণ বা রশিদ তাঁর কাছে নেই। একইভাবে তলব করা হলেও তিনি যে শুনানিতে উপস্থিত হয়েছিলেন, তারও কোনও প্রমাণ তাঁর কাছে নেই। তাছাড়া, শুনানির সময় কী কী প্রশ্ন করা হয়েছিল, তারও কোনো নথিবদ্ধ বিবরণও নেই। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির প্রশ্ন, পরবর্তীতে যদি তারা (কমিশন) ঘোষণা করে যে নথিপত্রগুলো যথাযথ ছিল না, সেক্ষেত্রে আমি কীভাবে সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানাব? কারণ আমাকে কোনো রশিদই দেওয়া হয়নি।’’
 

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দুই দফার জন্য মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ যথাক্রমে ৮ ও ১২ এপ্রিল নির্ধারিত থাকলেও, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশক্রমে গঠিত ‘আপিল ট্রাইব্যুনাল’গুলো কীভাবে, কোথায় এবং কখন তাদের কার্যক্রম শুরু করবে সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও স্পষ্টতা নেই।

এই প্রসঙ্গে বিচারপতি মুন্সি বলেন, ‘যে ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে, তা কেবল কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ। ওই ট্রাইব্যুনালগুলো কীভাবে কাজ করবে এবং তাদের করণীয় কী হবে সে বিষয়ে কোনও নির্দেশিকাই নেই। আমি জানি না, এখন কার দ্বারস্থ হব।’’ তিনি আরও বলেন যে,‘‘স্বাভাবিক ন্যায়বিচারের লঙ্ঘনের যুক্তিতে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করা ছাড়া, আপিল ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার মতো অন্য কোনও ভিত্তি বা কারণ আমার হাতে নেই। আর যদি আপিল ট্রাইব্যুনাল আমার আবেদনটিকে গ্রহণযোগ্য বা উপযুক্ত বলে মনে না করে, তবে আমাকে সংবিধানের ২২৬ অনুচ্ছেদের অধীনে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে হবে।’’ তবে কমিশনের দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশের পর অবশ্য স্বস্তিতে এই অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। ভোটার তালিকায় তাঁদের প্রত্যেকের নামই অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। উল্লেখ্য, মুন্সি ২০১৩ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি পদে ছিলেন।বর্তমানে ‘পশ্চিমবঙ্গ ওয়াকফ বোর্ড’-এর চেয়ারম্যান হিসেবে কর্মরত।