পুবের কলম ওয়েবডেস্কঃ ভোটার তালিকায় নাম নেই। সেই অভিযোগ নিয়ে বেশ কয়েক মাস ধরেই নির্বাচন কমিশনের দফতরে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন কয়েকশো মানুষ। অবশেষে তাঁদের কাছে এসআইআরের শুনানির নোটিশ পৌঁছল। কিন্তু সেই নোটিশ পেয়ে রীতিমতো হতবাক হয়েছেন ওই ভোটাররা। কারণ ওই নোটিশে লেখা রয়েছে, ২০২৬ সালের ১৫ জানুয়ারি তাঁদের দুপুর ৩ টে থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে বিডিও অফিসে হাজিরা দিতে হবে। আর আজকের তারিখ হল ৮ এপ্রিল।

অর্থাৎ সময় পেরিয়ে যাওয়ার প্রায় আড়াই মাস পর নোটিশ পেলেন ওই ভোটাররা। এমনই ঘটনা ঘটেছে হাওড়ার সাঁকরাইলে। 

জানা যাচ্ছে, ওই ব্লকের ৬ টি বুথের প্রায় ১১০০ ভোটারের নাম ভোটার তালিকায় ছিল না। তাদের মধ্যে অধিকাংশই হল মুসলিম। নোটিশে বলা হয়েছে, ১৫ জানুয়ারি বিডিও অফিসে শুনানিতে হাজির হতে হবে। তাঁদের অভিযোগ ছিল, তারা অনেক দিন ধরেই কমিশনের দফতরে ঘুরে বেরিয়েছেন।

অথচ আজ বুধবার তাদের কাছে নোটিশ এসেছে। তা দেখে বেজায় ক্ষুব্ধ হন ভোটাররা। জানা গিয়েছে, এদিন আচমকাই ৬টি বুথের বিএলও ওই ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে শুনানির নোটিস দিয়ে আসেন। এই ঘটনা ঘটেছে, সাঁকরাইল ব্লকের মানিকপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ২৩৫, ২৩৬, ২৩৭, ২৩৮, ২৩৯ ও ২৪০ নম্বর বুথে।  শুনানি শেষ হয়ে যাওয়ার পর তাঁদের হাতে নোটিশ আসায় তাঁরা এদিন সাঁকরাইল থানার অন্তর্গত মানিকপুর ফাঁড়ির সামনে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান। বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, ‘‘যাঁরা আমাদের ভোটার তালিকায় নাম থাকা নিয়ে এভাবে ছিনিমিনি খেলছেন নির্বাচন কমিশনের সেই আধিকারিক ও কর্মীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিতে হবে।
এটা চক্রান্ত, কোনোভাবেই এটা মেনে নেওয়া যায় না। 

এই খবর পেয়ে, বিক্ষোভকারীদের আশ্বস্ত করতে ঘটনাস্থলে ছুটে যান সাঁকরাইলের বিডিও কামারুল মনির। বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, এখন যে করেই হোক তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় তুলে দিতে হবে। সময়মতো তাঁরা কাগজ পাননি এটা কমিশনের ভুল। এনিয়ে তৃণমূলের বক্তব্য, তারা এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাছে। যাদের নাম বাদ পড়েছে তৃণমূল তাদের পাশে রয়েছে।