পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ বৃহস্পতিবার প্রথম দফার ভোট মিটেছে। আগামী বুধবার দ্বিতীয় দফা অর্থাৎ শেষ দফার ভোট। তার আগে ভোটার স্লিপ নিয়ে বড় বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একইসঙ্গে প্রথম দফার ভোটের হারের প্রসঙ্গ নিয়েও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে কটাক্ষ করেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
আরও পড়ুন:
হাওড়ার জনসভা থেকে প্রথম দফার ভোটদানের হার তুলে ধরে সরাসরি বিজেপিকে আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তাঁর দাবি, প্রথম দফার ফলাফলেই বিজেপির বড় ধাক্কার ইঙ্গিত স্পষ্ট, এমনকি তারা আগের তুলনায় অর্ধেক আসনও পাবে না। প্রথম দফায় ৯২ শতাংশেরও বেশি ভোট পড়েছে, যা নজিরবিহীন। এই উচ্চ ভোটদানের প্রসঙ্গ টেনে মমতা বলেন, মানুষ নিজেদের অধিকার রক্ষার তাগিদেই এত বড় সংখ্যায় ভোট দিয়েছেন। একই সঙ্গে ভোটারদের উদ্দেশে তিনি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, যাঁদের নাম ভোটার তালিকায় রয়েছে, তাঁরা যেন ভোট দেওয়ার পর স্লিপ সংরক্ষণ করে রাখেন, কারণ তিনি প্রশাসনের উপর সম্পূর্ণ ভরসা করতে পারছেন না।আরও পড়ুন:
সভা থেকে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাগুলির ভূমিকা নিয়েও তীব্র মন্তব্য করেন তিনি।
তাঁর বক্তব্য, ক্ষমতার পরিবর্তন হলে এই ধরনের হানা বা তল্লাশিকে নীতিগতভাবে পুনর্বিবেচনা করা হবে। ব্যবসায়ী মহলের অসুবিধার কথাও উল্লেখ করে তিনি ইঙ্গিত দেন, অযথা হয়রানি বন্ধ করার দিকে নজর দেওয়া হতে পারে। এর আগে একাধিকবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ তুলেছেন যে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে তৃণমূল নেতাদের বাড়িতে তল্লাশি কিংবা রাজনৈতিক কৌশলবিদ সংস্থার কার্যালয়ে অভিযান সব ক্ষেত্রেই তিনি কেন্দ্রকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। একইভাবে অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং হেমন্ত সোরেন-এর বিরুদ্ধেও তদন্তের প্রসঙ্গে তিনি সরব হয়েছিলেন।আরও পড়ুন:
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র গঙ্গা সফর নিয়েও কটাক্ষ করেন মমতা। তাঁর বক্তব্য, বাংলার গঙ্গা পরিষ্কার বলেই সেখানে নৌকাভ্রমণ করা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি দিল্লির যমুনা নদী-র দূষণ নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। হাওড়ার সভায় বিহারের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথাও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, ভোটের সময় সামনে রাখা হয়েছিল নীতীশ কুমার-কে, কিন্তু ভোটের পর তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসানো হয়েছে সম্রাট চৌধরি-কে। এদিনের সভা থেকে গিগ অর্থনীতি ও দোকানকর্মীদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প চালুর প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। সভার শেষে তাঁর বার্তা, এ বার শুধু পরিবর্তন নয়, গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ে প্রতিশোধের সময় এসেছে।