বিশ্ব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জ্বালানি নিরাপত্তা সংকটের দিকে এগোচ্ছে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল বলেছেন, বৈশ্বিক তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা বিশ্ব জ্বালানি বাজারকে নজিরবিহীন ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
আরও পড়ুন:
সিঙ্গাপুরে সিএনবিসির ‘কনভার্জ লাইভ’ অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে ফাতিহ বিরোল বলেন, “এখন পর্যন্ত বিশ্ব প্রতিদিন ১ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেল তেলের সরবরাহ হারিয়েছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পণ্যগুলোর সরবরাহেও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটছে।” তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় অস্বাভাবিক চাপ তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন:
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও বিরোল বলেন, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং সরকারগুলোর জরুরি পদক্ষেপের ফলে চাহিদার ওপর নিম্নমুখী চাপ পড়তে পারে। অর্থাৎ, সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় চাহিদা কমে যাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থাকে বর্তমান সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখছে আইইএ। বিরোল আগেই সতর্ক করেছিলেন, ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালির বন্ধ হয়ে যাওয়া “আমাদের দেখা সবচেয়ে বড় জ্বালানি সংকট” সৃষ্টি করতে পারে।
আরও পড়ুন:
বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধের আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য পরিবহন হতো।
বর্তমানে এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট কার্যত অবরুদ্ধ। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উত্তেজনার কারণে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।আরও পড়ুন:
আইইএ সতর্ক করে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হবে, মূল্যস্ফীতি বাড়বে এবং অনেক দেশকে জ্বালানি রেশনিংয়ের মতো কঠোর পদক্ষেপ নিতে হতে পারে।
আরও পড়ুন:
ইউরোপের জন্য পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। আইইএর মতে, খুব শিগগিরই ইউরোপে জেট জ্বালানির ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
কিছু দেশে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সরবরাহ সংকট প্রকট হতে পারে।আরও পড়ুন:
ফাতিহ বিরোল বলেন, “ইউরোপ তার প্রায় ৭৫ শতাংশ জেট জ্বালানি মধ্যপ্রাচ্যের রিফাইনারি থেকে পায়, যা এখন কার্যত শূন্যে নেমে এসেছে।” তিনি জানান, ইউরোপ এখন যুক্তরাষ্ট্র ও নাইজেরিয়া থেকে অতিরিক্ত জেট জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা করছে। তবে তা পর্যাপ্ত না হলে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে।
আরও পড়ুন:
তিনি আরও বলেন, “আমি আশা করি হরমুজ প্রণালি দ্রুত খুলে দেওয়া হবে এবং রিফাইনারি থেকে রফতানি আবার শুরু হবে।”