ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে টানা সংঘাতের জেরে প্রায় দুই মাস বন্ধ থাকার পর অবশেষে নিজেদের আকাশসীমা পুনরায় উন্মুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে কুয়েত। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানায়, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় আজ থেকেই আকাশসীমা ব্যবহারের ওপর জারি থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হচ্ছে।

কুয়েতের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা কুনা-র বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে তুরস্কের সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি। কুয়েতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের মহাপরিচালক হামৌদ মুবারক বলেন, আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার কারণে যে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল, তা তুলে নেওয়া হয়েছে। তিনি এটিকে বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রমে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রথম বড় পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।

মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কুয়েতসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর আকাশপথে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। মূলত ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যু নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার জের ধরেই এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়। গত ফেব্রুয়ারিতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কয়েক দফা আলোচনা হলেও তা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়।

এরপরই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করলে একই সময় ইসরায়েলও হামলা চালায়।

এই অভিযানে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের কয়েকজন নিহত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধ পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়।

এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে। কুয়েতও সেই সংঘাতের বাইরে থাকতে পারেনি। কয়েকবার কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও হামলার ঘটনা ঘটে, যার ফলে বিমান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

হামৌদ মুবারক জানিয়েছেন, হামলায় বিমানবন্দরের অবকাঠামোর কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল।

ইতোমধ্যে সেই ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন ও নথিভুক্তকরণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ায় আকাশসীমা পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এই দীর্ঘ সময় কুয়েতের বিমান চলাচল বন্ধ থাকায় দেশটির বিমানগুলো সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে রাখা হয়েছিল। এই সহায়তার জন্য সৌদি আরবের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে কুয়েত সরকার।

বর্তমানে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ধাপে ধাপে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রমে ফিরতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। খুব শিগগিরই আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলো নিয়মিত সময়সূচি অনুযায়ী চলাচল শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে।