পহেলগাঁওয়ের মর্মান্তিক জঙ্গি হামলায় নিজের প্রাণ বিসর্জন দিয়ে পর্যটকদের রক্ষা করার চেষ্টা করেছিলেন সৈয়দ আদিল শাহ। তাঁর সেই অসাধারণ সাহসিকতা ও মানবিকতার স্বীকৃতি হিসেবে আদিলের পরিবারের হাতে নতুন বাড়ির চাবি তুলে দিল মহারাষ্ট্র সরকার।
এক বছর আগে ঘটে যাওয়া সেই ভয়াবহ ঘটনার বর্ষপূর্তিতে এই সম্মান জানানো হলো কাশ্মীরের আইশমুকামের কাছে হাপাতনগরে।
আরও পড়ুন:
গত বছরের ২২ এপ্রিল, পহেলগাঁওয়ের বৈসরণ উপত্যকায় হঠাৎ জঙ্গি হামলায় মুহূর্তে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে দিশেহারা হয়ে ছুটছিলেন পর্যটকেরা। সেই বিভীষিকার মধ্যেও নিজের নিরাপত্তার কথা না ভেবে এগিয়ে আসেন স্থানীয় টাট্টু ঘোড়াচালক সৈয়দ আদিল শাহ।
তিনি জঙ্গিদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন, যাতে নিরীহ পর্যটকেরা নিরাপদে সরে যেতে পারেন। কিন্তু সেই সাহসিকতার মাশুল তাঁকে দিতে হয় নিজের জীবন দিয়ে। জঙ্গিদের গুলিতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন আদিল।আরও পড়ুন:
আদিলের এই আত্মত্যাগ কেবল কাশ্মীর নয়, গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। তাঁর বীরত্ব ও মানবিকতা মানুষের মনে গভীর ছাপ ফেলে। নিজের জীবন বিপন্ন জেনেও অন্যের জীবন বাঁচানোর যে উদাহরণ তিনি সৃষ্টি করেছেন, তা আজও এক বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।
আরও পড়ুন:
এই সাহসিকতার স্মৃতি অমলিন রাখতে এবং পরিবারের পাশে দাঁড়াতে মঙ্গলবার আদিলের পরিবারের হাতে একটি নতুন বাড়ি তুলে দেয় মহারাষ্ট্র সরকার। অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যোগ দেন মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ সিন্ধে। সরকারি প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে আদিলের মা-বাবার হাতে বাড়ির চাবি তুলে দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন:
অনুষ্ঠানে একনাথ সিন্ধে বলেন,“পর্যটকদের বাঁচাতে আদিল যেভাবে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন, এই বাড়ি সেই সাহসিকতার প্রতীক। এটি কোনও পুরস্কার নয়, বরং তাঁর প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার নিদর্শন।”
আরও পড়ুন:
তিনি আরও বলেন,“আদিল প্রকৃত মানবতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ রেখে গেছেন।
জঙ্গিদের সামনে দাঁড়িয়ে যে সাহস তিনি দেখিয়েছেন, তার জন্য তাঁর বাবা-মাকে সেলাম জানাই। এই উপহার হয়তো ছোট, কিন্তু এর তাৎপর্য অনেক বড়।”আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, হামলার পরপরই আদিলের পরিবারকে পাঁচ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা এবং একটি নতুন বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন একনাথ সিন্ধে। এক বছর পর সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হওয়ায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন আদিলের পরিবার।
আরও পড়ুন:
নতুন বাড়ির চাবি হাতে নিয়ে আদিলের বাবা হায়দার শাহ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন,
“একনাথ সিন্ধেকে অসংখ্য ধন্যবাদ।”
আরও পড়ুন:
সৈয়দ আদিল শাহের আত্মত্যাগ আজও মনে করিয়ে দেয়— মানবতা ও সাহস কখনও হারিয়ে যায় না। নিজের জীবন দিয়ে অন্যের প্রাণ রক্ষার যে মহান উদাহরণ তিনি রেখে গেছেন, এই নতুন বাড়ি যেন সেই বীরত্বের নীরব স্মারক হয়ে রইল।