মধ্যপ্রাচ্য ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের ওপর চলমান অবরোধ কার্যকর করতে ওই অঞ্চলে বর্তমানে দুটি বিমানবাহী রণতরিসহ অন্তত ২৬টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আরও পড়ুন:
জানা গেছে, গত ১৩ এপ্রিল থেকে ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে কঠোর অবরোধ কার্যকর করতে মাঠে নেমেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এই অভিযানের অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্য ও ভারত মহাসাগরের কৌশলগত বিভিন্ন স্থানে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে।
ইতোমধ্যে ভারত মহাসাগরসহ বিভিন্ন এলাকায় অন্তত তিনটি জাহাজে তল্লাশি চালিয়েছে মার্কিন সেনারা। এর মধ্যে দুটি অভিযান পরিচালিত হয়েছে পারস্য উপসাগর থেকে প্রায় দুই হাজার মাইল দূরে ভারত মহাসাগরে।আরও পড়ুন:
সর্বশেষ বুধবার রাতে ভারত মহাসাগরে নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত একটি তেলবাহী জাহাজে অভিযান চালায় মার্কিন বাহিনী। পেন্টাগনের দাবি, জাহাজটি ইরান থেকে তেল পরিবহন করছিল।
আরও পড়ুন:
বর্তমানে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) অধীনে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় ১৯টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে। এই নৌবহরের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দুটি বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন এবং ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড। এদের নিরাপত্তায় রয়েছে একাধিক ডেস্ট্রয়ার ও কমব্যাট শিপ।
আরও পড়ুন:
মোতায়েনকৃত ডেস্ট্রয়ারগুলোর মধ্যে রয়েছে ইউএসএস বেইনব্রিজ, ইউএসএস টমাস হাডনার, ইউএসএস ফ্রাঙ্ক ই পিটারসেন জুনিয়র, ইউএসএস ডেলবার্ট ডি ব্ল্যাক, ইউএসএস মাইকেল মারফি, ইউএসএস মিটশার, ইউএসএস রাফায়েল পেরাল্টা, ইউএসএস স্প্রুয়েন্স, ইউএসএস মিলিয়াস, ইউএসএস চার্চিল, ইউএসএস ট্রাক্সটন এবং ইউএসএস মাহান।
এছাড়া রয়েছে ইউএসএস ক্যানবেরা ও ইউএসএস তুলসা নামের দুটি কমব্যাট শিপ এবং ইউএসএস ত্রিপোলি, ইউএসএস নিউ অরলিন্স ও ইউএসএস রাশমোর নিয়ে গঠিত একটি অ্যাম্ফিবিয়াস গ্রুপ।আরও পড়ুন:
অন্যদিকে, ভারত মহাসাগরের বিস্তীর্ণ এলাকায় আরও সাতটি যুদ্ধজাহাজ টহল দিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ইউএসএস জন ফিন, ইউএসএস পিঙ্কনি, ইউএসএস হিগিন্স, ইউএসএস মাস্টিন, ইউএসএস ম্যাকফল, ইউএসএস জন এল. ক্যানলি এবং ইউএসএস সান্তা বারবারা।
আরও পড়ুন:
মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর মতে, এই বিপুল সামরিক মোতায়েন শুধু ইরানবিরোধী নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার উদ্দেশ্যেই নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্য ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত আধিপত্য বজায় রাখারও একটি বড় পদক্ষেপ।
আরও পড়ুন:
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক তৎপরতা অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে এত বড় নৌবহর মোতায়েনকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।