যাদবপুর রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় মধ্যরাতের উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল দক্ষিণ কলকাতা। বেআইনি দোকান ও গুমটি উচ্ছেদ করতে গিয়ে বাম-কংগ্রেস কর্মী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং পড়ুয়াদের বিক্ষোভের মুখে পড়ে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। পরিস্থিতি সামাল দিতে লাঠিচার্জের অভিযোগ উঠেছে নিরাপত্তারক্ষীদের বিরুদ্ধে। ঘটনায় এসএফআইয়ের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য-সহ ছয় জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
জানা গেছে রবিবার গভীর রাতে যাদবপুর স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় রেলের পক্ষ থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। সন্ধ্যা থেকেই ২১২ নম্বর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় জড়ো হয়ে প্রতিবাদে সামিল হন বাম ও কংগ্রেসের নেতা-কর্মীরা।
তাঁদের সঙ্গে ছিলেন দোকানদার, স্থানীয় বাসিন্দা এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশের পড়ুয়ারাও। হাতে সংবিধান ও ড. বি. আর. আম্বেদকরের ছবি নিয়ে ‘বুলডোজ়ার হটাও’ স্লোগানে সরব হন আন্দোলনকারীরা।আরও পড়ুন:
রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এলাকায় মোতায়েন করা হয় বিপুল সংখ্যক পুলিশ, আরপিএফ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। বুলডোজ়ার পৌঁছতেই তার সামনে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন সৃজন ভট্টাচার্য-সহ আন্দোলনকারীরা। দীর্ঘক্ষণ অনড় অবস্থান চলার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
আরও পড়ুন:
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, উচ্ছেদ অভিযান চালাতে গিয়ে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী নির্বিচারে লাঠিচার্জ করে।
এতে বহু আন্দোলনকারী আহত হন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন সৃজন ভট্টাচার্য, নাট্যকর্মী জয়রাজ ভট্টাচার্য-সহ একাধিক ব্যক্তি। সূত্রের দাবি, অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। কয়েকজনকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সিটি স্ক্যানও করা হয়েছে।আরও পড়ুন:
উচ্ছেদে বাধা দেওয়ার অভিযোগে সৃজন ভট্টাচার্য-সহ ছয় জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ ভ্যানে তোলার সময় সৃজন অভিযোগ করেন, “আদালত ও আইনি প্রক্রিয়াকে উপেক্ষা করে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে।
আমরা তারই প্রতিবাদ করেছি।”গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে সোমবার ভোররাত থেকেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ নম্বর গেটের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেছে এসএফআই। ধৃতদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি তুলেছে সংগঠনটি।
আরও পড়ুন:
অন্যদিকে, রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় বেআইনি দখলমুক্ত করার কাজ নিয়ম মেনেই করা হয়েছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি দোকান ও গুমটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। যেসব স্থাপনা এখনও রয়েছে, সেগুলির মালিকদের ১৫ দিনের নোটিস দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার পর গোটা এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। যাদবপুরের এই উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে তীব্র উত্তেজনা