তৃণমূল কংগ্রেসে বড়সড় ভাঙনের ইঙ্গিত। রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন প্রবীণ নেতা সুখেন্দু শেখর রায়। সোমবার রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পাশাপাশি তৃণমূলের সঙ্গেও সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা করেন তিনি।
ইস্তফার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দলের বিরুদ্ধে একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন সুখেন্দুশেখর।

তাঁর দাবি, দলের অভ্যন্তরে গণতান্ত্রিক আলোচনা কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছিল এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বহু নেতার মতামত উপেক্ষা করা হত। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিপর্যয়ের পরও আত্মসমালোচনা বা সঠিক পর্যালোচনার উদ্যোগ দেখা যায়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

প্রবীণ এই নেতা বলেন, ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দল আদর্শচ্যুত হতে শুরু করে এবং ধীরে ধীরে দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেয়। তিনি অভিযোগ করেন, দলের নেতৃত্ব সাধারণ মানুষের মনোভাব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং জনসমর্থন হারানোর মূল কারণও সেটাই।


আর জি কর-কাণ্ড নিয়েও ফের সরব হন সুখেন্দুশেখর। তাঁর বক্তব্য, ওই ঘটনার তদন্ত ও দায় নির্ধারণের দাবিতে সরব হওয়ার পর থেকেই তিনি দলের ভিতরে ক্রমশ একঘরে হয়ে পড়েন। জনমানসে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ তিনি তখনই দেখতে পেয়েছিলেন বলেও দাবি করেন।
রাজনীতিতে তাঁর ভবিষ্যৎ কী হবে, সে বিষয়ে অবশ্য স্পষ্ট অবস্থান নেননি সুখেন্দুশেখর। তিনি জানান, আপাতত কোনও সিদ্ধান্ত নেননি। ভবিষ্যতে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় থাকবেন নাকি সম্পূর্ণ সরে দাঁড়াবেন, তা সময়ই বলবে।