পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: নদিয়া জেলায় ভোটার তালিকা সংশোধনের পর প্রায় আড়াই লক্ষ মহিলা ভোটারের নাম বাদ পড়ায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জেলায় মোট ৪ লক্ষ ৬৩ হাজার ৯৫৬ জন ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। এর মধ্যে মহিলা ভোটার রয়েছেন ২ লক্ষ ৪৯ হাজার ৯৭৭ জন, আর পুরুষ ভোটারের সংখ্যা প্রায় ২ লক্ষ ১৪ হাজার। অর্থাৎ নাম বাদ পড়ার তালিকায় মহিলাদের সংখ্যাই অনেক বেশি। এই ঘটনাকে ঘিরে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস।

তৃণমূলের অভিযোগ, রাজ্যে মহিলাদের জন্য চালু হওয়া একাধিক জনমুখী প্রকল্প—বিশেষ করে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো উদ্যোগের ফলে মহিলাদের মধ্যে তৃণমূলের সমর্থন বেড়েছে। সেই সমর্থনকে দুর্বল করতেই পরিকল্পিতভাবে মহিলা ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এটি নিছক প্রশাসনিক ত্রুটি নয়, বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ।

গত বছরের অক্টোবর মাসে প্রকাশিত ভোটার তালিকায় নদিয়ায় মোট ভোটার ছিলেন ৪৪ লক্ষ ১৮ হাজার ৮৩৮ জন। তার মধ্যে মহিলা ভোটারের সংখ্যা ছিল ২১ লক্ষ ৪৯ হাজার ৭৬৪।

কিন্তু সংশোধনের পর সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১৮ লক্ষ ৯৯ হাজার ৭৮৭-এ। অর্থাৎ কয়েক মাসের ব্যবধানে বিপুল সংখ্যক মহিলা ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে রানাঘাট, কৃষ্ণনগর দক্ষিণ, নাকাশিপাড়া-সহ একাধিক বিধানসভা কেন্দ্রে।

তৃণমূলের দাবি, বিয়ের পর পদবি পরিবর্তন, পারিবারিক লিঙ্ক সংক্রান্ত জটিলতা এবং তথাকথিত ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র অজুহাতে বহু বৈধ মহিলা ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এতে মহিলাদের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে।

অন্যদিকে বিজেপির দাবি, নির্বাচন কমিশন স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরির জন্য নিয়ম মেনেই কাজ করেছে। তবে যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা করা হবে।