পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: বিগত দশ বছরের মধ্যে এ বছরই মহিলা ভোটারের সংখ্যা সর্বনিম্ন সংখ্যায় পৌঁছেছে। কমেছে পুরুষ এবং মহিলা ভোটারদের অনুপাতও। গত শুক্রবার লোকসভায় সাংসদ রচনা ব্যানার্জির এক প্রশ্নের উত্তরে এই তথ্য জানিয়েছেন আইন এবং বিচারবিভাগের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল। কেন্দ্রীয় সরকারেরই দেওয়া তথ্য অনুযায়ী গত ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখে যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে সেখানে দেখা যাচ্ছে মহিলা ভোটারের সংখ্যা ৩ কোটি ১৬ লক্ষ ৪০ হাজার ৫৮৫। দশ বছর পরে এ বছরই মহিলা ভোটারের সংখ্যা নজিরবিহীনভাবে কমল। এর আগে ২০১৬ সালে এই সংখ্যা ছিল ৩ কোটি ১৬ লক্ষ ৩৮ হাজার ৯৯৩। শুধু ভোটারের সংখ্যাই নয়, কমেছে পুরুষ এবং মহিলা ভোটারের অনুপাতও।

এসআইআর প্রক্রিয়া শুরুর আগে প্রতি ১০০০ পুরুষ ভোটারের সমানুপাতে মহিলা ভোটারের সংখ্যা ছিল ৯৬৯। যেখানে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এসআইআর -এর চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় দেখা যাচ্ছে, প্রতি ১০০০ পুরুষ মহিলার সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৯৬৪। ২০১২ সালের পর থেকে এবারই প্রথম পুরুষ এবং মহিলা ভোটারের অনুপাত এতটা কমল। 
 
বাংলায় মহিলা ভোটারের সংখ্যার এই রেকর্ড পতন নিয়ে সরব হয়েছে তৃণমূল। তাদের বক্তব্য এসআইআর প্রক্রিয়ায় ব্যাপক হারে রাজ্যের মহিলা ভোটারের নাম কাটা গিয়েছে। বহু ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে বাড়ির পুরুষ সদস্যদের নাম থাকলেও বাড়ির মহিলা ভোটারদের নাম তালিকা থেকে ‘ডিলিটেড’ হয়ে গিয়েছে। তৃণমূলের বক্তব্য, এসআইআর প্রক্রিয়ার অছিলায় পরিকল্পিতভাবে মহিলাদের নিশানা করা হয়েছে।
বিয়ের পরে ঠিকানা বা পদবি পরিবর্তন হওয়া একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু এই অজুহাতে ‘অ্যাডজুডিকেশন’-এর নামে লক্ষ লক্ষ মহিলার নাম ভোটার তালিকা থেকে মুছে দেওয়া হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, নারীশক্তিকে কোণঠাসা করতেই বিজেপি ও কমিশন এই ষড়যন্ত্র কষছে। 
 
একুশের বিধানসভা ভোট থেকেই একটা রব উঠেছিল বাংলার মেয়েদের ভোটেই জয়ী হয়েছেন বাংলার ‘নিজের মেয়ে’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিশেষ করে একুশের ভোটের আগে বাংলার মহিলাদের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নের প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর ঘোষণা বিরাট জয় এনে দিয়েছিল তৃণমূলকে। ছাব্বিশের ভোটের আগেও মহিলা ভোটারদের মন পেতে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়াও মহিলাদের জন্য কন্যাশ্রী, রূপশ্রী ইত্যাদি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলি মহিলাদের ভোট ব্যাঙ্ক টানতে যথেষ্ট সাফল্য এনে দেবে বলেই পর্যবেক্ষক মহলের ধারণা।

 
পর্যবেক্ষক মহলের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মহিলা ভোটে কোপ ফেলতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই এসআইআর প্রক্রিয়ায় মহিলা ভোটারদের নাম ডিলিট করা হয়েছে। এমনকী ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ তালিকায় থাকা মহিলাদের সংখ্যাও পুরুষদের তুলনায় অনেক বেশি। ‘বিচারাধীন’ ভোটারদের নিষ্পত্তির করে যে ‘সাপ্লিমেন্টারি’ তালিকা প্রকাশিত হচ্ছে এ পর্যন্ত সেখানেও মহিলা ভোটারের নাম তালিকায় কমই ভোটার তালিকাভুক্ত হচ্ছে। 
তৃণমূলের তরফে অরূপ চক্রবর্তী জানাচ্ছেন, বিজেপি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মহিলা ভোট ব্যাঙ্ক দেখে ভয় পাচ্ছে। তাই নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে মহিলা ভোটারের সংখ্যা কমানোর কৌশল করছে। এমনকী বামফ্রন্ট নেতা সুজন চক্রবর্তীও জানাচ্ছেন এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সময় থেকেই বিজেপির টার্গেট মহিলা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটারদের সংখ্যা কমানো। কমিশনকে দিয়ে সেই কাজটাই করাচ্ছে তারা।