পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ রাজ্যে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ চলাকালীনই দুঃখজনক ঘটনা। ভোট দিতে গিয়ে চার জন ভোটারের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, মালদহ এবং বীরভূম, এই চার জেলায় পৃথক ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন চার জন। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, প্রবল গরমের জেরে হৃদরোগেই তাঁদের মৃত্যু হয়েছে।
আরও পড়ুন:
মৃতদের মধ্যে পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরের বাসিন্দা নৃপেন্দ্র দাস, পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুরের ইসরাতন বিবি, মালদহের মালতিপুরের প্রমিলা বাগদি এবং বীরভূমের সিউড়ির অসীম রায় রয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই রাজ্যে প্রথম দফার ভোট শুরু হয়েছে।
উত্তরবঙ্গের পাশাপাশি দুই মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং পশ্চিম বর্ধমানেও চলছে ভোটগ্রহণ। পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে বৈশাখের শুরু থেকেই তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। আবহাওয়া দপ্তর আগেই তাপপ্রবাহের সতর্কবার্তা দিয়েছিল। সকাল থেকেই তীব্র রোদে ভোটারদের লাইনে দাঁড়াতে দেখা যায়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গরম আরও বাড়তে থাকে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বেলা ১১টা পর্যন্ত ভোটদানের হারও উল্লেখযোগ্য ছিল।আরও পড়ুন:
পটাশপুরের বামনবাড় জুনিয়র হাইস্কুলের ২৩৪ নম্বর বুথে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন ৫৮ বছরের নৃপেন্দ্র দাস। কিছুক্ষণ পরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং জ্ঞান হারান। দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুরে সীমা গেরিয়া এলাকার বাসিন্দা ইসরাতন বিবিও ভোট দিতে গিয়ে প্রাণ হারান। ভোট দেওয়ার পরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই মৃত্যু হয়। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁর স্বামীর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন ছিলেন।
সেই দুশ্চিন্তার মধ্যেই একা ভোট দিতে গিয়েছিলেন তিনি। তাঁর পরিবারে স্বামী, দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছেন। ঘটনায় পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।আরও পড়ুন:
বীরভূমের সিউড়িতে ভোট দিতে যাওয়ার পথে স্ট্রোকে মৃত্যু হয় অসীম রায় নামে এক বৃদ্ধের। তিনি সিউড়ির ডাঙ্গালপাড়া এলাকার বাসিন্দা। অন্যদিকে, মালদহের মালতিপুরে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন প্রমিলা বাগদি। ভোট দেওয়ার আগেই মাথা ঘুরে পড়ে যান তিনি। পরে তাঁকে বাড়িতে নিয়ে আসা হলে তাঁর মৃত্যু হয়। একাধিক জেলার এই পরপর মৃত্যুর ঘটনায় ভোটের দিনেই উদ্বেগ বাড়িয়েছে প্রবল গরম ও শারীরিক অসুস্থতার আশঙ্কা।