পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ ভোটের আগে বাইক ব্যবহারে বিধিনিষেধ জারি করা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাই কোর্ট। বৃহস্পতিবার শুনানিতে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও স্পষ্ট ভাষায় জানান, এই ধরনের সিদ্ধান্তে কমিশন নিজেদের ক্ষমতার অপব্যবহার করছে এবং সাধারণ মানুষের উপর অযথা চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। আদালতের এই মন্তব্যের পর কমিশনকে জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবারের মধ্যে একটি হলফনামা জমা দিতে হবে। সেখানে ব্যাখ্যা করতে হবে, ঠিক কী কারণে ভোটের দু’দিন আগে এমন কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি অতীতে বাইক ব্যবহার করে কোনও অশান্তির নজির থাকলে, সেই তথ্যও আদালতের সামনে তুলে ধরতে পারে কমিশন।
আরও পড়ুন:
শুনানির সময় বিচারপতি রাও প্রশ্ন তোলেন, সাধারণ মানুষের চলাচলের অধিকার এভাবে সীমাবদ্ধ করা যায় কি না। তিনি মন্তব্য করেন, যদি নিরাপত্তার কারণ দেখানো হয়, তা হলে একই যুক্তিতে অন্য যানবাহনও বন্ধ করে দেওয়া যেতে পারে। তাঁর কথায়, গত পাঁচ বছরে কতবার বাইক ব্যবহার করে গোলমালের ঘটনা ঘটেছে, সেই হিসেব আদালতকে দেখাতে হবে। শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতা ঢাকতেই এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। উল্লেখ্য, মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন এক নির্দেশিকা জারি করে জানায়, ভোটের দু’দিন আগে থেকে বাইক মিছিল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
সেই সঙ্গে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বাইক চালানোর অনুমতি থাকলেও, পিছনে কোনও যাত্রী বহন করা যাবে না। ভোটের দিনও একই নিয়ম কার্যকর থাকবে। তবে ভোট দিতে যাওয়া বা জরুরি প্রয়োজনে বেরোলে এই ক্ষেত্রে কিছু ছাড় রাখা হয়েছে।আরও পড়ুন:
কমিশনের তরফে আরও জানানো হয়েছে, চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রয়োজন, পারিবারিক জরুরি কাজ বা শিশুদের স্কুলে আনা-নেওয়ার মতো ক্ষেত্রে এই বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে না। সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রেও ছাড়ের কথা বলা হয়েছে।
পাশাপাশি অ্যাপভিত্তিক যাত্রী পরিষেবার ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না বলেও স্পষ্ট করা হয়েছে। বিশেষ পরিস্থিতিতে কেউ এই নিষেধাজ্ঞা থেকে অব্যাহতি চাইলে, তাঁকে সংশ্লিষ্ট থানার কাছ থেকে লিখিত অনুমতি নিতে হবে।আরও পড়ুন:
এই নির্দেশিকার বিরুদ্ধেই হাই কোর্টে আবেদন করা হয়। বুধবার আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করে শুনানির অনুমতি দেয়। বৃহস্পতিবার সেই মামলারই বিস্তারিত শুনানি হয়, যেখানে কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলে আদালত।