পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ ফলতার পুনর্নির্বাচনে শোচনীয় হার হয়েছে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খানের। আর এবার কলকাতা হাইকোর্টেও স্বস্তি পেলেন না পুষ্পা। যে মামলায় জাহাঙ্গীর আগে রক্ষাকবচ পেয়েছিলেন তার মেয়াদ নতুন করে আর বাড়ালো না কলকাতা হাইকোর্ট। দুটি  অন্তর্বর্তী আদালত রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করেছে। ফলে জাহাঙ্গীরের গ্রেফতারিতে আর কোনও বাধা রইল না। 

এদেইন মামলার সওয়াল জবাবের সময় বিচারপতি পার্থসারথির বেঞ্চের প্রশ্নের মুখে পড়েন জাহাঙ্গীরের আইনজীবী কিশোর দত্ত। তিনি রক্ষাকবচের মেয়াদ বাড়ানোর আর্জি জানান আদালতের কাছে।

বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের পর্যবেক্ষণ,  "ভোটের সময়ে মামলাকারীকে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছিল। পুলিশ মামলা যেখানে রুজু করেছে তখন তদন্ত হবেই।" বিচারপতি এও বলেন, "আমি যদি পুলিশি রিপোর্টে দেখতে পাই যে, অভিযোগের সাপেক্ষে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ আছে তাহলে কিন্তু আপনার মক্কেলের পক্ষে তা ভালো হবে না।" এরপরেই বিচারপতির প্রশ্ন, "কেন রক্ষাকবচ তুলে নেওয়া হবে না?" 

উল্লেখ্য, ফলতা বিধানসভা নির্বাচনের আগে একাধিক মামলায় রক্ষাকবচ চেয়ে কলাকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন জাহাঙ্গীর। সেই সঙ্গে পুলিশকে রিপোর্টও জমা দিতে বলে কলকাতা হাইকোর্ট। সেই মর্মে মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টে রিপোর্ট জমা দেয় পুলিশ।

জানা যাচ্ছে, এর আগে জাহাঙ্গীরকে ৫ টি মামলায় অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। আজ মঙ্গলবার তাঁর রক্ষাকবচের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। অন্যদিকে, ২০১৯ সালে জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছিল। সেই মামলাতেই জাহাঙ্গীর রক্ষাকবচ চেয়েছিলেন আজ। সেই রক্ষাকবচের মেয়াদ আগামীকাল শেষ হবে। 

রাজ্যের দাবি, তদন্তে সহযোগিতা করবেন এই শর্তে জাহাঙ্গীরকে রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, তিনি তদন্তে সহযোগিতা করেননি।

উল্লেখ্য, ভোটের দুদিন আগেই ভোটের ময়দান ছেড়ে পালান জাহাঙ্গীর। তিনি ঘোষণা করেন, নতুন সরকার ফলতায় উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তাই তিনি নির্বাচনী ময়দান থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। এরপর ভোটের দিন এমনকি ভোটের ফলের দিনও বুথে ও কাউন্টিং সেন্টারে তৃণমূলের কোনও এজেন্টকে দেখা যায়নি। সেখানে এক লাখেরও বেশি ভোটে জয়ী হন বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পান্ডা। অন্যদিকে, জাহাঙ্গীর পান মাত্র কয়েক হাজার ভোট। এবার আরও অস্বস্তিতে পড়লেন জাহাঙ্গীর।