পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর শুভেন্দু অধিকারী এনিয়ে কড়া বার্তা দেওয়ার পরেই পুরনো দুর্নীতির অভিযোগে একে একে গ্রেফতার হচ্ছেন তৃণমূল নেতারা। তবে অভিযোগ উঠছে, অনেককেই গ্রেফতারের পর জনসমক্ষে কোমড়ে দড়ি বেঁধে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এনিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে। সেই সংক্রান্ত মামলায় পুলিশের এহেন পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করল হাইকোর্ট।
এই ধরনের পদক্ষেপ কেন নেওয়া হয়েছে, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়ে রাজ্য সরকারের কাছে রিপোর্ট তলব করেছে আদালত। হাইকোর্টের নির্দেশ, আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে সেই রিপোর্ট জমা দিতে হবে। চার সপ্তাহ পর মামলার পরবর্তী শুনানি।আরও পড়ুন:
আজ শুক্রবার মামলার শুনানিতে বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত ও বিচারপতি স্মিতা দাস দে-র ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানায়, আইন অনুযায়ী পুলিশ কোনও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে পারে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। তবে শুধুমাত্র গ্রেপ্তারের নামে কারও মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করা বা জনসমক্ষে অপমান করা যায় না।
সম্প্রতি রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় কয়েকটি ঘটনায় দেখা গিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের কোমরে দড়ি বেঁধে বা বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে প্রকাশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই ঘটনাগুলিকে কেন্দ্র করে মানবাধিকার সংগঠনগুলির একাংশ আপত্তি জানায়। তাদের দাবি, এমন আচরণ অভিযুক্তের ব্যক্তিগত মর্যাদার পরিপন্থী এবং মানবাধিকার ক্ষুন্ন করে। এই বিষয়েই একাধিক জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছিল।আরও পড়ুন:
মামলাকারীদের বক্তব্য, কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও আদালতে দোষ প্রমাণিত হওয়ার আগে তাঁকে প্রকাশ্যে অপদস্থ করা উচিত নয়।
কোমরে দড়ি বা হাতকড়া পরিয়ে জনসমক্ষে প্রদর্শন করা হলে তা সামাজিকভাবে তাঁর সম্মানহানির কারণ হতে পারে। শুনানির সময় আদালত রাজ্যের কাছে জানতে চায়, সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলিতে অভিযুক্তদের কোমরে দড়ি পরানোর প্রয়োজনীয়তা কী ছিল। পাশাপাশি, ওই ব্যক্তিদের পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল কি না সেটিও ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে রিপোর্টে।আরও পড়ুন:
এ দিন বিচারপতি সেনগুপ্ত বলেন, "পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে, আইন মেনে তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে পারে। দোষ প্রমাণিত হলে তাঁকে ফাঁসিতেও চড়াতে পারে। কিন্তু গ্রেপ্তারের নামে ইচ্ছাকৃত ভাবে অভিযুক্তদের সম্মানহানি করতে পারে না।" এদিকে বিষয়টি নিয়ে সক্রিয় হয়েছে রাজ্য মানবাধিকার কমিশনও। কমিশনের পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়েছে, তারা ইতিমধ্যেই অভিযোগ গ্রহণ করেছে এবং ঘটনাগুলির প্রেক্ষাপট ও পুলিশের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।