পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ ঈদ-উল-আযহার আগে প্রকাশ্যে পশু জবাই সংক্রান্ত বিষয়ে রাজ্য সরকার কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে। বহু পুরনো আইন কঠোরভাবে কার্যকর করার নির্দেশকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। এই পরিস্থিতিতে বিষয়টি পৌঁছেছে কলকাতা হাইকোর্টে। ইতিমধ্যেই এই সংক্রান্ত মোট আটটি মামলা দায়ের হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার সবকটি মামলার একসঙ্গে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
আরও পড়ুন:
বুধবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চে মামলাগুলি শুনানির জন্য ওঠে। এদিন রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নিজেদের অবস্থান জানাতে কিছুটা সময় চাওয়া হয়। এরপর আদালত নির্দেশ দেয়, প্রতিটি মামলার ক্ষেত্রে আলাদা করে রাজ্যের বক্তব্য বৃহস্পতিবারের মধ্যেই জমা দিতে হবে। পাশাপাশি বৈধ কসাইখানা পরিচালনার জন্য রাজ্যের কী ধরনের পরিকাঠামো রয়েছে, তাও আদালতকে বিস্তারিত জানাতে বলা হয়েছে। ১৯৫০ সালের পশ্চিমবঙ্গ পশুবলি নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট নিয়ম না মেনে কোনও গবাদি পশু বলি দেওয়া যায় না।
বিশেষ করে গোরু, ষাঁড়, বলদ এবং মোষ বলির ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। আইন অনুযায়ী, কোনও পশুকে বলি দেওয়ার আগে তার শারীরিক সক্ষমতা ও বয়স নিয়ে সরকারি অনুমোদন প্রয়োজন।আরও পড়ুন:
নিয়ম বলছে, সংশ্লিষ্ট পশুর বয়স কমপক্ষে ১৪ বছর হতে হবে এবং সেটি প্রজননের পক্ষে সম্পূর্ণ অযোগ্য হতে হবে। সেই শংসাপত্রে স্থানীয় পুরসভা বা পঞ্চায়েতের প্রধানের পাশাপাশি একজন পশুচিকিৎসকের যৌথ স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক। এই অনুমতি ছাড়া কোনও পশুকে নির্দিষ্ট কসাইখানায় নিয়ে গিয়ে বলি দেওয়া যাবে না।
এই নির্দেশিকা জারি হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন জেলায় বিভ্রান্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হাওড়া ও হুগলির মতো জেলাগুলিতে ঈদ-উল-আযহার আগে পশুহাটে ব্যাপক গবাদি পশুর কেনাবেচা হয়। কিন্তু নতুন করে আইন কার্যকর করার নির্দেশ সামনে আসতেই বহু জায়গায় গোরুর হাট বন্ধ হয়ে গিয়েছে বলে খবর। ফলে ঈদের আগে ব্যবসায়ী থেকে সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আদালতের পরবর্তী শুনানির দিকে এখন নজর সকলের।