পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মীকে গ্রেফতারের আশঙ্কা তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। সেই মামলার শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বুধবার আদালত জানিয়ে দেয়, নির্বাচন কমিশনের তৈরি করা গ্রেফতারের তালিকার উপর আপাতত স্থগিতাদেশ জারি থাকছে। তৃণমূলের দাবি ছিল, রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রায় ৮০০ নেতা ও কর্মীর নাম চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারের প্রস্তুতি চলছে। এই আশঙ্কা নিয়েই সপ্তাহের শুরুতে আদালতে আবেদন জানায় তৃণমূল কংগ্রেস।
নাম-সহ তালিকাও জমা দেওয়া হয় আদালতের কাছে। মামলাটি শুনানি করেন প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেন–এর ডিভিশন বেঞ্চ।আরও পড়ুন:
শুনানিতে আদালত স্পষ্ট জানায়, শুধুমাত্র সম্ভাব্য গোলমালকারী বলে চিহ্নিত করে এভাবে একযোগে গ্রেফতার করা যায় না। কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হলে তা অবশ্যই নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া মেনেই করতে হবে। এমনকি সতর্কতামূলক আটক করার ক্ষেত্রেও আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট বিধি অনুসরণ বাধ্যতামূলক।
এদিনই নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল। বৈঠকের পর রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব কুমার অভিযোগ করেন, শুধুমাত্র মৌখিক নির্দেশের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই কয়েকশো নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়েছে, যা ফৌজদারি বিধি এবং নির্বাচনী আদর্শের পরিপন্থী। তিনি জানান, এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে আইনি পথে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।আরও পড়ুন:
আদালত আরও জানায়, সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদে নির্বাচন কমিশনকে যে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, তা সীমাহীন নয়। অন্য কোনও প্রযোজ্য আইন থাকলে সেই আইন মেনেই পদক্ষেপ করতে হবে। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, শুধুমাত্র সম্ভাব্য সমস্যা সৃষ্টিকারী বলে চিহ্নিত করে গণ গ্রেফতারির নির্দেশ দেওয়া প্রাথমিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। নাগরিকের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা কেবল আইনের সীমারেখার মধ্যেই নিয়ন্ত্রিত হতে পারে বলেও স্পষ্ট করে দিয়েছে আদালত।