পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ নির্বাচন কমিশনের কাজই নিরপেক্ষভাবে কাজ করা। কিন্তু, সেই নির্বাচন কমিশনই একটি দলের হয়ে কাজ করছে বলে কয়েক বছর ধরেই অভিযোগ তুলে আসছে বিরোধীরা। বিশেষ করে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া কার্যকর হওয়ার পর থেকেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছে। এই আবহে আবারও জ্ঞানেশকে সরাতে চেয়ে ইমপিচমেন্টের প্রস্তাব আনল বিরোধী শিবির। প্রথম দফার ভোট মিটতেই এই প্রস্তাব এনেছে তৃণমূল কংগ্রেস।

 

জানা গিয়েছে, তৃণমূলের আনা এই ইমপিচমেন্ট প্রস্তাবে সই করেছেন ৭৩ জন বিরোধী সাংসদ। যদিও গতকাল প্রথম দফার ভোট মিটেছে বঙ্গে। সেই সঙ্গে তামিলনাড়ুতেও ভোট সম্পন্ন হয়েছে। এরমধ্যে বঙ্গে ভোটদানের হার সর্বকালের রেকর্ড ছাপিয়ে গিয়েছে বলে দাবি করেছে নির্বাচন কমিশন। ভোট পর্ব মোটামুটিভাবে শান্তিপূর্ণ হওয়ার জন্য বিরোধীদের অনেকেই নির্বাচন কমিশনের প্রশংসা করেছে।

তবে তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন আগেই জানিয়েছিলেন, সংসদে ডিলিমিটেশন বিল আটকে দেওয়ার পর এবার জ্ঞানেশকে সরাতে ফের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সেইমতোই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে সরাতে ফের উদ্যোগী হয়েছে বিরোধী শিবির। জ্ঞানেশকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার পদ থেকে অপসারিত করতে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব জমা দিল বিরোধী শিবির। যদিও এর আগের বার যখন জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্টের প্রস্তাব আনা হয়েছিল লোকসভায়। সেই সময় দুই কক্ষের মোট ৩০০ সাংসদের স্বাক্ষর সম্বলিত একটি ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনা হয়েছিল জ্ঞানেশ কুমারকে সরাতে।
 

এবার রাজ্যসভায় ইমপিচমেন্টের প্রস্তাব জমা পড়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে জমা পড়া নোটিশে মোট ৯ টি অভিযোগ তোলা হয়েছে। পক্ষপাতদুষ্ট ও বৈষম্যমূলক আচরণের পাশাপাশি নির্বাচনী জালিয়াতির তদন্তে ইচ্ছাকৃত বাধা সৃষ্টি ও এসআইআর-এর মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক ভোটারকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগও রয়েছে এর মধ্যে।  উল্লেখ্য, এর আগে নিয়ম অনুযায়ী, ওই প্রস্তাব সংসদের দুই কক্ষেই জমা দিয়েছিল বিরোধীরা। প্রয়োজনীয় সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি সাংসদের সইও ছিল নোটিশে। কিন্তু, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা সেই নোটিশ খারিজ করে দেন।