পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ নির্বাচনী প্রচারে কড়া ভাষার ব্যবহার নতুন নয়, তবে তার মাঝেই ভিন্ন সুর শোনা গেল তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে। পানিহাটির সভামঞ্চ থেকে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, কোনওভাবেই যেন বিজেপি প্রার্থীকে ব্যক্তিগত বা অশালীন আক্রমণ না করা হয়।
আরও পড়ুন:
তিনি বলেন, রাজনৈতিক লড়াই হোক মতাদর্শে, ব্যক্তিগত আক্রমণে নয়। বিজেপি প্রার্থীকে উল্লেখ করে অভিষেক জানান, তিনি একজন মা এবং ব্যক্তিগত জীবনে শোকের মধ্যে রয়েছেন।
তাই তাঁকে সম্মান দেখানো উচিত বলেই মত তাঁর। দুঃখ ও চাপের পরিস্থিতিতে মানুষ অনেক সময় ভুল সিদ্ধান্ত নিতে পারেন-এই কথাও উল্লেখ করেন তিনি। যদিও এই মন্তব্যের জবাবে বিজেপি প্রার্থী রত্না দেবনাথ দাবি করেন, তাঁকে ইতিমধ্যেই একাধিকবার আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছে, এখন এই ধরনের মন্তব্যে বিশেষ কিছু যায় আসে না। উল্লেখ্য, এর আগে একই মঞ্চে সৌজন্যের বার্তা দিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।আরও পড়ুন:
সভায় আরজি কর হাসপাতালের ঘটনা নিয়েও সরব হন অভিষেক। তিনি বলেন, ওই ঘটনার পর রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদ হয়েছিল এবং সেই আন্দোলনকে সম্মান জানিয়েছিল সরকার। তাঁর বক্তব্য, ঘটনার পর দ্রুত গ্রেপ্তার হলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও চূড়ান্ত শাস্তি হয়নি অভিযুক্তের। এই প্রসঙ্গ টেনে বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনীতি করার অভিযোগও তোলেন তিনি।
এছাড়া ‘অপরাজিতা বিল’ নিয়েও সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন তিনি। বিজেপি প্রার্থীর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে বার্তা পৌঁছে দেওয়ার আবেদন জানিয়ে অভিষেক বলেন, ধর্ষণের মতো অপরাধে দ্রুত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে এই বিল পাশ জরুরি। তাঁর দাবি, নির্দিষ্ট প্রমাণ থাকলে ৫০ দিনের মধ্যে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার লক্ষ্যেই এই বিল আনা হয়েছে।আরও পড়ুন:
বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে তিনি আরও বলেন, যারা অতীতে ধর্ষণ ও খুনের অপরাধে দোষীদের সম্মান জানিয়েছে, তাদের কাছ থেকে ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা করা যায় না। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, পানিহাটি দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি। তবে এবারের নির্বাচনে বিজেপি আবেগঘন ইস্যুকে সামনে রেখে লড়াই জোরদার করার চেষ্টা করছে।