পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: সরকারি অনুষ্ঠানের শুরুতে এবং শেষে জাতীয় স্তোত্র ‘বন্দে মাতরম’-এর সম্পূর্ণ পাঁচটি স্তবকই গাওয়া বাধ্যবাধকতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর। ‘বন্দে মাতরম’-কে বাধ্যতামূলক করা “অপ্রয়োজনীয় এবং কষ্টদায়ক” বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি। কেরলে জাতীয় স্তোত্র গাওয়ার নিয়মকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক বিতর্কের আবহে সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে থারুর বলেন, ‘বন্দে মাতরম’-কে প্রত্যেকেই সম্মান করে। কিন্তু প্রতিটি অনুষ্ঠানে এর সম্পূর্ণ সংস্করণ গাওয়া বাধ্যতামূলক করার সপক্ষে যুক্তি খোঁজা কঠিন।
আরও পড়ুন:
শশী থারুর প্রথা ও ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “বন্দে মাতরম আমাদের জাতীয় স্তোত্র (National Song) এবং এটি গাওয়ার সময় আমরা সবাই শ্রদ্ধার সাথে উঠে দাঁড়াই। সাধারণত এই গানের প্রথম স্তবক বা প্রথম দুটি স্তবকই বেশিরভাগ মানুষের মুখস্থ থাকে।” তিনি উল্লেখ করেন, ঐতিহ্যগতভাবে কোনও অনুষ্ঠানের শুরুতে একবার এই গানটি গাওয়া হতো এবং জাতীয় সঙ্গীত আলাদাভাবে অনুষ্ঠানের শেষে বাজানো হতো। কিন্তু এখন অনুষ্ঠানের শুরু এবং শেষ— উভয় সময়েই পাঁচটি স্তবক গাওয়ার নিয়ম চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা তাঁর মতে একটি অপ্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত।
আরও পড়ুন:
এই নিয়ম নিয়ে কেরল সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে থারুর জানান, রাজ্য সরকার সম্পূর্ণ সংস্করণটি গাওয়াকে ‘ঐচ্ছিক’ বা বাধ্যতামূলক নয় বলেই মনে করে। তবে কেরলের রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকর এই বিষয়ে ভিন্ন মত পোষণ করেন। সংসদে এই সংক্রান্ত কোনও নির্দিষ্ট আইন পাস না হওয়ার কথা মনে করিয়ে দিয়ে কংগ্রেস সাংসদ বলেন, “বিষয়টি শেষ পর্যন্ত হয়তো আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হতে পারে। কারণ পার্লামেন্টে এমন কোনও আইন পাস হয়নি যা এটি বাধ্যতামূলক করে। এটি মূলত একটি কনভেনশন বা সামাজিক প্রথার বিষয়।”