পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নামগুলি নিয়ে শীর্ষ আদালতের সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।  রাজ্যের সাধারণ মানুষকে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি দলীয় কর্মীদেরও বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।  মুখ্যমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, এই বিষয়টি নিয়ে তিনিই প্রথম আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন।  তাই এই রায়ে তিনি অত্যন্ত খুশি বলে জানান।
ভোটের প্রচারের কাজে এই মুহূর্তে উত্তরবঙ্গে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।  কোচবিহারে পৌঁছেই তিনি শীর্ষ আদালতের রায়ের খবর পান।

  দিনহাটা থেকে হেলিকপ্টারে ওঠার পরেই এই খবর তাঁর কাছে পৌঁছায় বলে জানান তিনি।  কোচবিহারের হেলিপ্যাডে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তিনি শুরু থেকেই মানুষকে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করার পরামর্শ দিচ্ছিলেন।  আদালতের এই সিদ্ধান্তে তিনি খুবই সন্তুষ্ট এবং বিচারব্যবস্থার উপর তাঁর আস্থা আরও বেড়েছে বলেও মন্তব্য করেন।
এর পাশাপাশি দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী।  তিনি জানান, ট্রাইবুনালের কাজ শেষ হওয়ার পরে অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হলে দলীয় কর্মীদের দ্রুত বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার স্লিপ পৌঁছে দিতে হবে।  তাঁর বক্তব্য, যাঁরা ট্রাইবুনালে আবেদন করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে যাঁদের নাম প্রথম দফার ভোটের জন্য অনুমোদন পাবে, সেই অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে ভোটের দু’দিন আগে।
  সেই তালিকা হাতে পেলেই বুথস্তরের কর্মীদের রাতের মধ্যেই ভোটার স্লিপ তৈরি করে সংশ্লিষ্ট ভোটারদের বাড়িতে পৌঁছে দিতে হবে, যাতে যাঁদের নাম আগে বাদ পড়েছিল তাঁরা ভোট দিতে পারেন।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, দ্বিতীয় দফার ভোটের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।  সেই ক্ষেত্রেও ভোটের দু’দিন আগে অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। তিনি ভোটারদের নিশ্চিন্ত থাকার বার্তাও দেন। উল্লেখ্য, রাজ্যে বিশেষ পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়ায় প্রায় ৬০ লক্ষেরও বেশি নাম সন্দেহজনক তালিকায় ছিল।  পরে কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে নিযুক্ত বিচারবিভাগীয় আধিকারিকেরা সেই নামগুলির যাচাই-বাছাই করেন।
তবু যাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ে যায়, তাঁরা অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নিয়ে গঠিত ট্রাইবুনালে আবেদন করার সুযোগ পান শীর্ষ আদালতের নির্দেশে।
কিন্তু ভোটের সময় ঘনিয়ে আসায় ভোটার তালিকা নিয়ম অনুযায়ী স্থির করে দেওয়া হয়েছিল।  ফলে ট্রাইবুনাল যদি কাউকে যোগ্য বলেও মনে করে, তবু তিনি ভোট দিতে পারবেন কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।  এই বিষয়েই আদালতে মামলা চলছিল।  বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিয়েছে, ভোটের দু’দিন আগে পর্যন্ত ট্রাইবুনাল যদি কাউকে অনুমোদন দেয়, তবে তিনি ভোট দিতে পারবেন।  আদালতের এই সিদ্ধান্তেই স্বস্তি পেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।