পুবের কলম ওয়েবডেস্কঃ বঙ্গে এসআইআরের প্রথম পর্বে বাদ পড়েছে প্রায় ৯১ লক্ষ নাম। পরে ডিলিট হয়েছে আরও ২৭ লক্ষ ভোটারের নাম। তারওপর ভোটমুখী বাংলায় সুপ্রিম কোর্টও জানিয়ে দিয়েছে নাগরিকের ভোটাধিকার মৌলিক অধিকার নয়। প্রথম দফার ভোটের আগে ইতিমধ্যেই ভোটার তালিকা ফ্রিজ হয়েছে। এই পরিস্থিতে উদ্বেগে লক্ষ লক্ষ মানুষ। ভোটার তালিকায় নাম না ওঠায় লক্ষ লক্ষ পরিবার এখন আতঙ্কে। চিন্তা একটাই কীভাবে তাঁরা ভোটাধিকার ফিরে পাবেন? এই সংকটময় পরিস্থিতিতে এসআইআর নিয়ে বুধবার পার্ক সার্কাসের হুমায়ুন কবীর ইনস্টিটিউটে এক জরুরি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভার আয়োজক ছিলেন পুবের কলমের সম্পাদক তথা সংখালঘু কমিশনের চেয়ারম্যান আহমদ হাসান ইমরান। আমন্ত্রিতদের পাশাপাশি এই আলোচনা শুনতে এদিন উপস্থিত হয়েছিলেন ছাত্র, কর্মজীবী থেকে শুরু করে বহু সাধারণ মানুষ।

এরমধ্যে অনেকের পরিবারের সদস্যদের নাম বাদ গিয়েছে তালিকা থেকে। সুরাহা পেতে তাঁরা এদিন আলোচনা সভায় উপস্থিত হন। 

এদিনের আলোচনা সভার বিষয় ছিল "আমার ভোট, আমার অধিকার" যেখানে বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী, চিকিৎসক, অধ্যাপক, সমাজসেবী থেকে শুরু করে বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে এসআইআর নিয়ে উদ্বেগ, আর সেই সঙ্গে ডিলিট হয়ে যাওয়া ভোটাররা কীভাবে ভোটাধিকার ফিরে পাবেন সেই নিয়ে পরামর্শ। বক্তা হিসবে এদিন উপস্থিত ছিলেন আহমদ হাসান ইমরান, সমাজসেবী আমজেদ আলি, প্রফেসর ওম প্রকাশ মিশ্র, আইনজীবী খাজা জাভেদ, ডা. এম এন হক, সাংবাদিক সুমন ভট্টাচার্য, সংখ্যালঘু কমিশনের সদস্য শেহনাজ কাদরি প্রমুখ। ছাত্র, বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত ব্যক্তি থেকে শুরু করে বহু সচেতন নাগরিক এদিনের আলোচনা শুনতে পৌঁছে যান হুমায়ুন কবীর ইনস্টিউটে। 

এদিন আলোচনা শুনতে আসা গিয়াসুদ্দিন আহমেদ। রিপন স্কোয়ারের বাসিন্দা গিয়াসুদ্দিন এই ধরনের আলোচনা সভায় আসতে পেরে খুবই আপ্লুত। তিনি জানান, তাঁর স্ত্রীর নামও ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। তাই এদিনের আলোচনা শুনতে আসেন।

এই ধরনের আলোচনা সভায় স্ত্রীকে সঙ্গে আনতে না পাড়ায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে, এই ধরনের উদ্যোগকে তিনি সাধুবাদ জানান। তিনি বলেন, আরও বেশি করে এই ধরনের সভা, মিছিলের আয়োজন করা উচিত, তাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়বে। স্ত্রীর নাম যেহতু বাদ পড়েছে তাই এখন সমাধানের পথ খুঁজতে তিনি এদিনের আলোচনা শুনতে আসেন। পাশাপাশি, ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নাগরিকদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আহমদ হাসান ইমরানকে তিনি সাধুবাদ জানান। গিয়াসুদ্দিন বলেন, "একেবারে পরিকল্পনা করেই নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। মহিলারা লক্ষ্মীভান্ডার পাচ্ছেন। তাই তৃণমূলকে যাতে ভোট দিতে না পারে তার জন্য মহিলাদের নামও বেশি করে বাদ দেওয়া হচ্ছে। 

একইভাবে পড়ুয়া আব্দুল আজিজও এদিনের আলোচনা শুনতে এসেছিলেন। পড়াশোনার সুত্রে তোপসিয়ায় থাকেন মালদার বাসিন্দা আজিজ।

তিনি বলেন, তাঁর চাচা ও চাচির নাম এসআইআরে বাদ গিয়েছে। ইতিমধ্যেই তাঁরা ট্রাইব্যুনালের জন্য আবেদন করেছেন। পুবের কলমে বিজ্ঞাপন দেখে এদিনের আলোচনা সভায় আসেন। তিনি এসআইআর সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে এবং নাম ডিলিট সংক্রান্ত সমাধানের পথ জানতে এখানে আসেন। আলোচনা সভায় এসেছিলেন মুহাম্মদ শাহনওয়াজ ইসলাম। তিনি আল কুরআন ফাউন্ডেশন সংগঠনের সঙ্গে অবশ্য যুক্ত। তিনি বলেন, বিজেপি দুষ্টু চক্র চালাচ্ছে। এসআইআরের মাধ্যমে বেছে বেছে নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে টার্গেট করছে। আর বিজেপির অঙ্গুলিহেনলেই কাজ করছে নির্বাচন কমিশন। তাই এই অশুভ শক্তিকে রুখতে মানুষকে একজোট হতে হবে তিনি মনে করেন। এছাড়াও, এদিনের আলোচনা শুনতে সেখানে এসেছিলেন আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আসরাত আলি মোল্লা, দেগঙ্গা থেকে এসেছিলেন এ আর আহমদ, আকবর মোল্লা প্রমুখ। এদিনের আলোচনা শুনতে আসা শ্রোতাদের একটাই বক্তব্য, অবিলম্বে ডিলিট হয়ে যাওয়া নাগরিকদের ভোটাধিকার ফেরাতে হবে।