পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: পাঞ্জাবের জলন্ধর জেলার ভাঙ্গিওয়াল গ্রামে পুলিশি অভিযানের সময় গুলিতে এক ২২ বছর বয়সী যুবকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল এলাকা। পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপপ্রয়োগ এবং অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ এনেছে নিহতের পরিবার। অন্যদিকে, আত্মরক্ষার্থেই গুলি চালাতে বাধ্য হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ প্রশাসন। নিহত যুবকের নাম লভপ্রীত সিং। তাঁর কোমর এবং উরুতে দুটি গুলি লেগেছিল।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে নাকোদর সিভিল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। লভপ্রীতের বাবা কয়েক বছর আগেই মারা গেছেন এবং তিন বোনের মধ্যে তিনি এক মাত্র ভাই ছিলেন।আরও পড়ুন:
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মেহাতপুর থানার এসএইচও আমন সাইনির নেতৃত্বে একটি বিশেষ পুলিশ দল শুক্রবার সন্ধ্যা নাগাদ ভাঙ্গিওয়াল গ্রামে লভপ্রীতের বাড়িতে অভিযান চালায়। পুলিশের দাবি, চলতি বছরের শুরুর দিকে দায়ের হওয়া একটি খুনের চেষ্টা মামলায় লভপ্রীত অভিযুক্ত ছিলেন এবং গত চার মাস ধরে তিনি পলাতক ছিলেন। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে আরও চারটি অপরাধমূলক মামলা রয়েছে।
জলন্ধর গ্রামীণ অঞ্চলের এসএসপি হরবিন্দর সিং ভির্ক জানান, পুলিশ যখন লভপ্রীতকে গ্রেফতার করতে যায়, তখন তাঁর পরিবার ও আত্মীয়স্বজনরা পুলিশকে লক্ষ্য করে লাঠি ও পাথর নিয়ে চড়াও হয়।আরও পড়ুন:
এসএসপি হরবিন্দর সিং ভির্ক বলেন, "অভিযানের সময় পুলিশ দল তীব্র প্রতিরোধের মুখে পড়ে। উত্তেজিত জনতা অফিসারদের ওপর আচমকা আক্রমণ চালালে আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলি চালাতে বাধ্য হয়। সেই ধস্তাধস্তির মাঝেই দুটি গুলি লভপ্রীতের গায়ে লাগে।" এই সংঘর্ষে এসএইচও আমন সাইনি এবং কনস্টেবল সুখবিন্দর সিংও গুরুতর আহত হয়েছেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
পুলিশের এই আত্মরক্ষার তত্ত্বকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে লভপ্রীতের পরিবার। নিহতের কাকা জসবন্ত সিং অভিযোগ করেন, শুক্রবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ১৫ মিনিট নাগাদ পুলিশ আচমকা তাঁদের বাড়িতে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের মারধর শুরু করে। পরিবারের লোকজন যখন এর প্রতিবাদ করেন, তখন পুলিশ কোনো প্ররোচনা ছাড়াই নির্বিচারে গুলি চালাতে শুরু করে। লভপ্রীতের শরীরে গুলি লাগার পর গ্রামবাসীদের ভয় দেখাতে পুলিশ শূন্যেও কয়েক রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে বলে অভিযোগ। পরিবারের দাবি, গুলিবিদ্ধ লভপ্রীতকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে নাকোদর সিভিল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়।