পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ পাক অধিকৃত কাশ্মীরে নির্বাচনের ব্যবস্থা করছে পাকিস্তান। এনিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জে সরব হল ভারত। ভারতের যুক্তি, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটি ভারতের অবিচ্ছেদ্য এবং অখণ্ড অংশ ছিল ও থাকবে। শুক্রবার রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদের সভায় বিষয়টি উত্থাপন করলে এর বিরোধিতা করেন ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি পি হরিশ। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, মিথ্যা ও পক্ষপাতদুষ্ট প্রচার থেকে পাকিস্তানের অবিলম্বে বিরত থাকা উচিত।

 
হরিশ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ‘জম্মু ও কাশ্মীরের সমস্ত বিষয় ভারতের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। এনিয়ে পাকিস্তান যে কথাবার্তা বলছে তা একেবারে ভিত্তিহীন এবং মিথ্যা।উল্লেখ্য, পাক অধিকৃত কাশ্মীরের গিলগিট-বালটিস্তান অঞ্চলের রবিবার প্রাদেশিক আইনসভার নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হয় পাকিস্তনাএর তরফে। পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি আসিম ইফতিখার আহমেদ এ বিষয়টি রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভায় উত্থাপন করেন। সেই মন্তবের জবাব দিতে গিয়েই পাকিস্তানকে নিশানা করেন হরিশ।
তিনি জানান, পাকিস্তান নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে রাষ্ট্রপুঞ্জকে ব্যবহার করছে।  তিনি অভিযোগ করেন, ‘ভারতীয় ভূখণ্ডের অন্তর্গত ওই অঞ্চল বেআইনি ভাবে দখল করেছে পাকিস্তান। সেখানে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন, রাজনৈতিক দমন, অর্থনৈতিক শোষণের ঘটনা ঘটে চলেছে।
উল্লেখ্য, তৎকালীন ব্রিটিশদের আমলে জম্মু ও কাশ্মিরের অন্তর্গত ছিল গিলগিট-বালটিস্তান। তবে দেশ ভাগ হয়ে যাওয়ার পর ১৯৪৮ সালে ওই অংশ দখল করে নেয় পাকিস্তান।
কিন্তু গিলগিট-বালটিস্তানকে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের রাজধানী মুজফফরাবাদের নিয়ন্ত্রণে না আসায়, ফেডেরালি অ্যাডমিনিস্টারড নর্দার্ন এরিয়া নাম দিয়ে সেটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এরপর ২০০৯ সালে কেন্দ্রের অধীনে প্রথম স্থানীয় ভোট হয় গিলগিট-বালটিস্তানে। তখনও পাকিস্তানের সমালোচনা করেছিল ভারত। পরে ২০২০ সালে গিলগিট-বালটিস্তানে প্রাদেশিক আইনসভা গঠন করে প্রথম নির্বাচন করানো হয় পাকিস্তানের তরফে। তখনও আপত্তি জানিয়েছিল ভারত। আর এবার দ্বিতীয় নির্বাচনেও বিরোধিতা করল ভারত।