পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: ২০২০ সালে পূর্ব লাদাখে ভারত-চিন সীমান্ত সংঘাত এবং নিজের অপ্রকাশিত স্মৃতিকথা ‘ফোর স্টার্স অফ ডেস্টিনি’ নিয়ে চলা রাজনৈতিক বিতর্কের মাঝে অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল মনোজ মুকুন্দ নারাভানে। সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ২০২০ সালের সংঘাতে ভারত কোনো ভূখণ্ড হারায়নি এবং সেনাবাহিনীতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কোনো স্থান নেই।
আরও পড়ুন:
লাদাখ সীমান্ত নিয়ে কংগ্রেসের তোলা অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেনারেল নারাভানে বলেন, “আমি সেই সময়েও বলেছিলাম যে কোনো ভূখণ্ড খোয়া যায়নি। আজও আমি সেই দাবিতে অনড়।
এটাই বাস্তব।” তাঁর বইয়ের কিছু অংশ নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে তিনি আরও বলেন, “কেউ যদি বিশ্বাস করতে না চান, সেটা তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। যারা সত্য গ্রহণ করতে চায় না, কোনো প্রমাণ দিয়েই তাদের মন পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।”আরও পড়ুন:
ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখার পক্ষে জোরালো সওয়াল করেন প্রাক্তন সেনাপ্রধান।
তাঁর মতে, ভারতীয় সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক। এটিই ভারতের গণতন্ত্রের অন্যতম শক্তি। সেনার যেকোনো সিদ্ধান্ত সেনাপ্রধানের নির্দেশেই হয়। আর রাজনৈতিক স্তরে যেকোনো বড় সিদ্ধান্ত নেয় প্রধানমন্ত্রী নেতৃত্বাধীন ‘ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটি’। এখানে সরাসরি রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। প্রতিষ্ঠান হিসেবে সেনাবাহিনী অরাজনৈতিক হলেও, ব্যক্তিগতভাবে সেনাকর্মীদের ভোটাধিকার এবং রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকার গণতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে।আরও পড়ুন:
সেনাবাহিনীকে নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কে সাধারণ মানুষের আস্থা কমবে কি না, এমন প্রশ্নে নারাভানে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী। তিনি বলেন, “ভারতীয় জনগণের ভালোবাসা ও সম্মান এই ছোটখাটো নেতিবাচকতার চেয়ে অনেক বড়। আমাদের দেশের মানুষ আমাদের যে শক্তি দেয়, তার ওপর ভিত্তি করেই আমরা সীমান্তে দাঁড়িয়ে দেশ রক্ষা করি।” প্রাক্তন সেনাপ্রধান দেশের নাগরিকদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, “সবাই নিজস্ব বিবেক অনুযায়ী ব্যাখ্যা করার সুযোগ পান। তবে সেই ব্যাখ্যা যেন জাতীয় স্বার্থের কথা মাথায় রেখে করা হয়।”