পুবের কলম ওয়েবডেস্কঃ কলকাতায় হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ। সেই মন্তব্যে রীতিমতো তোলপাড় পড়ে গিয়েছিল। কিন্তু তারপরেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কিংবা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া জানাননি। এনিয়ে কেন্দ্র সরকারকে বিরোধীদের সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল।  এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী প্রচারে এসে অবশেষে বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ।

তিনি পাকিস্তানকে সতর্ক করে বলেন, তাদের পাঁচ দশক আগের ইতিহাস মনে রাখা উচিত, কীভাবে পাকিস্তান ভেঙে গিয়েছিল। আবার কোনও ধরনের উসকানি দিলে তার ফল কী হতে পারে, সেটাও তারা ভালো করেই জানে।

উল্লেখ্য, এর আগে রাজনাথ সিং মন্তব্য করেছিলেন, পাকিস্তান কোনও অপরাধমূলক কাজ করলেই পাল্টা প্রতিক্রিয়া পাবে। তাঁর এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফের মন্তব্য সামনে আসে। সেই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

পাকিস্তানের হুমকির পরেও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নীরবতা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নদিয়ার নাকাশিপাড়ায় এক নির্বাচনী সভায় মমতা বলেন, পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী কলকাতাকে লক্ষ্য করে হুমকি দিলেও প্রধানমন্ত্রী কেন কোনও প্রতিক্রিয়া জানাননি, তা নিয়ে তাঁর প্রশ্ন রয়েছে। তিনি আরও জানতে চান, ওই মন্তব্যের পিছনে অন্য কোনও উদ্দেশ্য আছে কি না।

অন্যদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও এনিয়ে কেন্দ্রকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তাঁর অভিযোগ, পাকিস্তানের মন্ত্রীর এমন মন্তব্যের পরেও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নীরব থেকেছে।

পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, ভবিষ্যতে কেন্দ্রে পরিবর্তন হলে পাকিস্তানের এই ধরনের হুমকির জবাব আরও কঠোরভাবে দেওয়া হবে। এই রাজনৈতিক তরজার ঠিক পরদিনই উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুরে নির্বাচনী প্রচারে যান রাজনাথ সিংহ। সভামঞ্চে তাঁর বক্তৃতার বড় অংশ জুড়ে ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল সরকারের সমালোচনা। তবে মূল ভাষণে তিনি পাকিস্তানের হুমকির প্রসঙ্গ সরাসরি তোলেননি। পরে এক বিজেপি প্রার্থীর মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পাকিস্তানকে সতর্ক করে তিনি বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকেই তাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত।