পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর কালীঘাটে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড়সড় পরিবর্তন চোখে পড়ল। মঙ্গলবার সকালেই হরিশ চট্টোপাধ্যায় স্ট্রিটের গলির মুখ থেকে সরিয়ে নেওয়া হল দীর্ঘদিনের কড়া নিয়ন্ত্রণের প্রতীক হয়ে ওঠা বিশেষ ব্যারিকেড। ফলে বহুদিন পর ওই এলাকায় সাধারণ মানুষের যাতায়াত অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে।

এতদিন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির দিকে যাওয়ার রাস্তা কার্যত কঠোর নজরদারির আওতায় ছিল। গলিতে প্রবেশ করতে গেলেই নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশকর্মীরা পরিচয় যাচাই করতেন।

কোথায় যাচ্ছেন, কেন যাচ্ছেন, কার সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন? এমন একাধিক প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হত পথচারীদের। শুধু বাইরের মানুষ নন, এলাকার স্থায়ী বাসিন্দাদেরও বাড়ি থেকে বেরোতে বা ফিরতে পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখা প্রায় বাধ্যতামূলক হয়ে উঠেছিল।

স্থানীয়দের কথায়, কখনও কখনও পাড়ার দোকানে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে গেলেও সঙ্গে পরিচয়পত্র রাখতে হত। নিজের বাড়িতে ঢুকতে গেলেও ঠিকানা, নাম-পরিচয় বিস্তারিত জানাতে হত নিরাপত্তারক্ষীদের।

কিন্তু মঙ্গলবার সকালে পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। গলির মুখে পুলিশ মোতায়েন থাকলেও কাউকে থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল না। আগে যে ব্যারিকেড দু’দিক থেকে কাঁচির মতো বন্ধ করে রাখা হত, সেটি একপাশে সরিয়ে রাখা হয়েছে। ফলে কোনও বাধা ছাড়াই মানুষজনকে যাতায়াত করতে দেখা যায়। এলাকার এক বাসিন্দা রাজু মাহাতো জানান, তিনি মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির উল্টো দিকের বাড়িতে থাকেন।
তাঁর কথায়, এখন আর যাতায়াতে আগের মতো কোনও বাধা নেই। পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক।

প্রসঙ্গত, তৃণমূলের ভরাডুবি এবং বিজেপির জয়ের ফল ঘোষণার পর সোমবার রাতেই কালীঘাটের বিভিন্ন রাস্তায় বিজয় মিছিল বের করে বিজেপি সমর্থকেরা। মোটরবাইক নিয়ে শোভাযাত্রাও হয় মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির কাছাকাছি এলাকায়। তবে সেই রাতেও পুরনো নিরাপত্তা বলয় বহাল ছিল। স্থানীয়দের দাবি, ফল ঘোষণার মাত্র এক দিনের মধ্যেই নিরাপত্তা ব্যবস্থার এই আমূল পরিবর্তন যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। প্রশাসনের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে মন্তব্য করেছেন, এই দৃশ্য যেন বহুদিনের এক কঠোর প্রাচীর ভেঙে যাওয়ার প্রতীক।