পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে ভোটগণনার প্রবণতায়। প্রায় দেড় দশক পর পশ্চিমবঙ্গে শাসন পরিবর্তনের সম্ভাবনা ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। গণনার অগ্রগতিতে বিজেপির এগিয়ে থাকার ছবি সামনে আসতেই বিভিন্ন জায়গায় শুরু হয়েছে উচ্ছ্বাস। এই আবহেই পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়া ও রামনগর কেন্দ্র থেকে ইভিএমে কারচুপির গুরুতর অভিযোগ তুললেন তৃণমূল কংগ্রেসের দুই প্রার্থী তাপসী মণ্ডল ও অখিল গিরি। তাঁদের দাবি, ভোটের ফল প্রকৃত জনমতকে প্রতিফলিত করছে না এবং এতে প্রযুক্তিগত হস্তক্ষেপের আশঙ্কা রয়েছে।

হলদিয়া কেন্দ্রের প্রার্থী তাপসী মণ্ডল গণনার একাধিক পর্ব শেষ হওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের সামনে প্রশ্ন তোলেন ইভিএমের ব্যাটারি চার্জ নিয়ে। তাঁর বক্তব্য, সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে ভোটগ্রহণ চলার পরেও প্রতিটি যন্ত্রে নব্বই শতাংশের বেশি চার্জ থাকা স্বাভাবিক নয়। তাঁর অভিযোগ, এতে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে যে যন্ত্রগুলি আগে থেকেই নির্দিষ্টভাবে প্রস্তুত করা হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের নজরে আনা হলেও কোনও কার্যকর পদক্ষেপ করা হয়নি। তাই আদালতের দ্বারস্থ হয়ে বিচারবিভাগীয় তদন্তের আবেদন জানানো হবে।

একই সুর শোনা যায় রামনগরের তৃণমূল প্রার্থী অখিল গিরির গলাতেও। গণনাকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে এসে তিনি অভিযোগ করেন, ভোটগ্রহণের কয়েকদিন পরেও ইভিএমে বিরানব্বই শতাংশ চার্জ থাকা অত্যন্ত অস্বাভাবিক। তাঁর বক্তব্য, রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ জানানো হলেও তাতে কোনও ফল মেলেনি। প্রতিবাদে তিনি গণনাকেন্দ্রের বাইরে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন এবং স্পষ্ট জানান, এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিতে আদালতের শরণাপন্ন হবেন। দুই প্রার্থীর এই অভিযোগে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। যদিও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। ফলে ইভিএম নিয়ে ওঠা এই প্রশ্ন আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক ও আইনি পরিসরে আরও বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে।