পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ বাংলার ক্ষমতা দখলকে সামনে রেখে এবারের নির্বাচনে সর্বশক্তি নিয়েই ঝাঁপিয়েছিল বিজেপি। নির্বাচনী প্রচারের শুরু থেকেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একাধিক জনসভা থেকে দাবি করেছিলেন, রাজ্যের মানুষ এবার পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিতে প্রস্তুত। তাঁর কথায়, বাংলার মানুষ উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং মর্যাদার রাজনীতি চায়। সেই কারণেই এবার বাংলায় পদ্ম ফুটবে বলেই তিনি দৃঢ় আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছিলেন। এমনকি কয়েকটি জেলায় তৃণমূল একটি আসনও পাবে না বলেও আগাম ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন তিনি।

ফলাফল প্রকাশের পর দেখা যাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর সেই বক্তব্য অনেকটাই বাস্তবের সঙ্গে মিলে গিয়েছে। প্রাথমিক গণনায় কিছু জায়গায় হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখা গেলেও সময় যত গড়িয়েছে, ততই স্পষ্ট হয়েছে বিজেপির এগিয়ে থাকার চিত্র। দুপুরের পর থেকেই বিজেপি বিপুল ব্যবধানে এগোতে শুরু করে। একসময় দেখা যায়, তারা প্রায় দু’শোর কাছাকাছি আসনে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূল নব্বইয়ের গণ্ডিও ছুঁতে পারেনি।

রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের লক্ষ্য সামনে রেখে বিজেপি এবারে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে প্রচার চালায়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বারবার বাংলায় এসে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেন। প্রচারের মাঝেই নারী সংরক্ষণ বিলের প্রসঙ্গ সামনে এনে তৃণমূলকে আক্রমণ শানায় গেরুয়া শিবির। সংসদে এই বিলের বিরোধিতার প্রসঙ্গ তুলে বিজেপি তৃণমূলকে নারীস্বার্থবিরোধী দল হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করে। পশ্চিম মেদিনীপুরের জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী এই ইস্যুতেই সরব হয়ে দাবি করেছিলেন, বাংলার মানুষ এবার জবাব দেবে।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, রাজ্যের মোট ৯টি জেলায় তৃণমূল একটিও আসন পায়নি বলে ফলাফলে দেখা যাচ্ছে। এই জেলাগুলি হল কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, দার্জিলিং, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমান এবং পূর্ব মেদিনীপুর। উত্তরবঙ্গ দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। যদিও আগের নির্বাচনে তৃণমূল সেখানে কিছুটা জমি ফিরে পেয়েছিল। কিন্তু এবারের ফলাফলে উত্তরবঙ্গে ঘাসফুল শিবির কার্যত অস্তিত্বহীন হয়ে পড়েছে। শুধু উত্তরবঙ্গই নয়, দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জেলাতেও একই ছবি ধরা পড়েছে। সব মিলিয়ে এই ফলাফল স্পষ্ট করে দিচ্ছে, বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।