পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষে বিজেপির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করলেন তামিলনাড়ুর প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি কে আন্নামালাই। শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপি ছাড়লেন তিনি। দলীয় সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করে আগেই বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের কাছে চিঠি পাঠিয়েছিলেন। তাঁর ইস্তফাপ্রত্র গ্রহণ করেন নিতিন নবীন। ইস্তফাপত্রে তিনি বিজেপির সঙ্গে মতের পার্থক্যের কথা উল্লেখ করেছেন। শুক্রবার পদত্যাগ করার পরেই নতুন রাজনৈতিক আন্দোলনের ঘোষণা করেছেন কে আন্নামালাই। তাঁর নতুন সংগঠনের নাম "আন্নামালাই মাক্কাল ইয়াক্কাম"  (এএমআই)। আন্নামালাই জানিয়েছেন, এই আন্দোলন ভবিষ্যতে একটি রাজনৈতিক দলে পরিণত হবে এবং আগামী তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে অংশ নেবে।

দলের সর্বভারতীয় সভাপতির কাছে পাঠানো পদত্যাগপত্রে আন্নামালাই উল্লেখ করেছেন, তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল।

গত প্রায় দেড় বছর ধরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই পক্ষের ভাবনার মধ্যে দূরত্ব ক্রমশ বেড়েছে বলেই তিনি দাবি করেছেন। চিঠিতে তিনি জানান, ৬ বছর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে অনুপ্রাণিত হয়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা এবং সাধারণ মানুষের কাছে রাজনীতিকে আরও গ্রহণযোগ্য করে তোলা। তিনি মনে করেন, রাজনীতি কেবলমাত্র প্রভাবশালী বা অভিজাত শ্রেণির জন্য নয়, সাধারণ মানুষেরও সমান অংশগ্রহণের ক্ষেত্র হওয়া উচিত।

আন্নামালাই আরও বলেন, বহু বছর ধরে প্রচলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ক্লান্ত তামিলনাড়ুর মানুষ পরিবর্তনের প্রত্যাশায় ছিলেন। তাঁর মতে, জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলি রাজ্যের মানুষের আবেগ,  ভাষা ও সাংস্কৃতিক চেতনাকে যথাযথভাবে উপলব্ধি করতে পারেনি। সেই পরিস্থিতি বদলানোর জন্যই তিনি কাজ করেছিলেন এবং নানা বাধা সত্ত্বেও কিছুটা সাফল্যও অর্জন করেছিলেন। নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি লিখেছেন, একজন জাতীয়তাবাদী হয়েও তিনি আঞ্চলিক ভাষা,  সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি গভীরভাবে গর্বিত। তাঁর বিশ্বাস, ভারতের শক্তি নিহিত রয়েছে বিভিন্ন রাজ্য ও সম্প্রদায়ের স্বকীয়তা এবং আকাঙ্ক্ষার মধ্যে।

কিন্তু তামিলনাড়ুর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গির মৌলিক পার্থক্য তৈরি হওয়ায় দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।

পদত্যাগপত্রে তিনি স্পষ্ট করে জানান, বহু চিন্তাভাবনার পর তিনি মনে করেছেন বিজেপি থেকে সরে দাঁড়িয়ে নিজের রাজনৈতিক লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে নতুনভাবে মূল্যায়নের সময় এসেছে। সেই কারণেই তিনি দলের প্রাথমিক সদস্যপদ এবং সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন। বিজেপি নেতৃত্ব পদত্যাগ গ্রহণ করার পর এক ভিডিও বার্তায় আন্নামালাই জানান, এই সিদ্ধান্ত আকস্মিক নয়। গত বছরের ডিসেম্বর মাসেই তিনি দলীয় নেতৃত্বকে তাঁর ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন। তবে তাঁকে নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করার অনুরোধ করা হয়েছিল। সেই অনুরোধ মেনেই তিনি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত দলের হয়ে কাজ চালিয়ে গিয়েছেন।

এদিন সাংবাদিক বৈঠকে তিনি নতুন রাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য সাধারণ মানুষের কাছে আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্য, তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে একটি বড় পরিবর্তনের সময় এসেছে এবং সেই পরিবর্তনের লক্ষ্যে তাঁর নতুন দল আগামী বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই করবে।

 উল্লেখ্য, কর্নাটক ক্যাডারের আইপিএস অফিসার ছিলেন আন্নামালাই। তিনি ২০১৯ সালে চাকরি ছেড়ে ‘উই দ্য লিডারস ফাউন্ডেশন’ নামে একটি সংগঠন তৈরি করেন। পরে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন ২০২০ সালে। এর এক বছরের মধ্যেই তাঁকে দলের রাজ্য সভাপতি করে বিজেপি। তারপরেই তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। বিশেষ করে তৎকালীন ডিএমকে সরকারের বিরুদ্ধে আন্নামালাইয়ের আক্রমণাত্মক প্রচার এবং পদযাত্রার ফলে বিজেপি রাজ্যে কিছুটা প্রভাব বিস্তার করেছিল। কিন্তু, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এআইএডিএমকে-র সঙ্গে জোট গঠন করলে বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর মত পার্থক্য সামনে আসে। কারণ তিনি চাইছিলেন বিজেপি এককভাবে নির্বাচনে লড়ুক। অবশেষে দল ত্যাগ করলেন তিনি।