পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: নির্বাচন কমিশনের বর্তমান ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়াটি আসলে ভারতীয় সংবিধান এবং নির্বাচনী আইন অনুযায়ী এক প্রকার ‘নাগরিকত্ব যাচাই’-এর কাজ। শুক্রবার জাতীয় মিডিয়া কনফারেন্সে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন দেশের মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তিনি স্পষ্ট করে জানান, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কমিশন কেবল সেইসব ভোটারদের চিহ্নিত করছে যারা এলাকা থেকে অনুপস্থিত, অন্য কোথাও স্থানান্তরিত হয়েছেন, মারা গেছেন, যাদের নাম দুবার উঠেছে অথবা যারা ভোটদানের অযোগ্য।
আরও পড়ুন:
নির্বাচন কমিশন আয়োজিত এই জাতীয় মিডিয়া কনফারেন্সে দেশের বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে আসা ৩৮০ জনেরও বেশি সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
সেখানে জ্ঞানেশ কুমার বলেন, ভোটার তালিকা ম্যাপিংয়ের এই কাজ সরাসরি সংবিধানের ৩২৬ নম্বর অনুচ্ছেদ থেকে উদ্ভূত হয়েছে। এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, শুধুমাত্র ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী ভারতীয় নাগরিকরা, যারা একটি নির্দিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় সাধারণত বসবাস করেন, তাঁরাই ভোট দেওয়ার অধিকার পান।আরও পড়ুন:
মুখ্য নির্বাচনী কমিশনারের কথায়, "ভোটার তালিকার ম্যাপিং সরাসরি নাগরিকত্বের সাথে জড়িত। সংবিধানের ৩২৬ নম্বর অনুচ্ছেদে ভোটদানের তিনটি মূল শর্ত দেওয়া হয়েছে— নাগরিকত্ব, বয়স এবং সাধারণ বাসস্থান।
নির্বাচন কমিশনকে এটা নিশ্চিত করতে হয় যে ভোটার তালিকা যেন এই সাংবিধানিক শর্তগুলি মেনেই তৈরি হয়।"আরও পড়ুন:
ভোটার তালিকার এই বিশেষ নিবিড় সংশোধনের মাধ্যমে যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে বলে যে অভিযোগ উঠেছিল, তা সম্পূর্ণ খারিজ করে দেন জ্ঞানেশ কুমার। তিনি জানান, এই প্রক্রিয়ার একমাত্র লক্ষ্য হলো ‘ASDTF’ (অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত, মৃত, ডুপ্লিকেট এবং স্থানান্তরিত/বিদেশি) ভোটারদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া। এর বাইরে বাকি সমস্ত যোগ্য ভোটারের নাম তালিকায় বহাল থাকবে।