যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নতুন নেতা হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশবাসীর কাছে নতুন আশার বার্তা দিলেন অ্যান্ডি বার্নহাম। দলের নেতৃত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে তিনি যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথও কার্যত নিশ্চিত করেছেন।
আরও পড়ুন:
লন্ডনে আয়োজিত লেবার পার্টির বিশেষ সম্মেলনে বার্নহাম বলেন, “দেশের মানুষ এবং বিভিন্ন অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে এমন রাজনীতির অপেক্ষায় রয়েছে, যা তাদের আবার আশা দেখাবে। আমরা সেই আশা ফিরিয়ে আনব।”
আরও পড়ুন:
সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, “আমি সবার জন্য, আমাদের সবার জন্য।
”গত মাসে দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিতর্ক এবং একাধিক নীতিগত ব্যর্থতার পর কিয়ার স্টারমার প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান। এরপর লেবার পার্টির নতুন নেতা নির্বাচিত হন বার্নহাম। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় নতুন নির্বাচন ছাড়াই দলের নেতা হিসেবে তিনিই যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন।
আরও পড়ুন:
মাত্র চার সপ্তাহ আগে উপনির্বাচনের মাধ্যমে প্রায় নয় বছর পর আবার সংসদে ফিরে আসেন সাবেক গ্রেটার ম্যানচেস্টর মেয়র বার্নহাম। এরপরই তিনি নেতৃত্বের লড়াইয়ে নেমে শেষ পর্যন্ত জয়ী হন।
আরও পড়ুন:
আগামী সোমবার দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে তিনি গত এক দশকে যুক্তরাজ্যের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী হবেন। লেবার পার্টির নেতাদের বিশ্বাস, অভিবাসনবিরোধী রিফর্ম ইউকে দলের নেতা নাইজেল ফারাজের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার মোকাবিলায় বার্নহামই সবচেয়ে কার্যকর নেতৃত্ব দিতে পারবেন।
আরও পড়ুন:
টানা তিনবার গ্রেটার ম্যানচেস্টরের মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় ‘কিং অব দ্য নর্থ’ নামে পরিচিত বার্নহামের অন্যতম অগ্রাধিকার হলো ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ। এ লক্ষ্যেই তিনি ‘নাম্বার ১০ নর্থ’ নামে একটি নতুন কার্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছেন।
আরও পড়ুন:
তিনি বলেন, “গত চার দশকে আমাদের দলের জন্ম দেওয়া অঞ্চল, গ্রামীণ জনপদ এবং উপকূলীয় এলাকার মানুষ প্রত্যাশিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
এবার তাদের জন্য আরও ভালো কিছু করার সময় এসেছে।”বার্নহামের মতে, দেশের সব মানুষ ও সব অঞ্চলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হলে গত ৪০ বছরের অর্থনৈতিক নীতির ধারা থেকে বেরিয়ে নতুন পথ বেছে নিতে হবে।
লেবার পার্টির সফট-লেফট ধারার নেতা হিসেবে পরিচিত বার্নহাম জনসেবামূলক খাতে রাষ্ট্রের ভূমিকা বাড়ানো, পুনঃশিল্পায়ন এবং সরকারি সেবায় সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ২০১০ ও ২০১৫ সালে ব্যর্থ হওয়ার পর তৃতীয় প্রচেষ্টায় তিনি দলের নেতৃত্ব অর্জন করেন।
আরও পড়ুন:
সম্মেলনের শেষ বক্তব্যে তিনি বলেন, “দোষারোপের রাজনীতি নয়, প্রয়োজন সমস্যা সমাধানের রাজনীতি। বহুদিন ধরে উপেক্ষিত সমস্যাগুলোর সমাধানে সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”