পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা 'নিট'-এর প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে এবার আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে পেল সিবিআই। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, পরীক্ষার ১০ দিন আগেই ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)-র কেমিস্ট্রি প্রশ্নপত্র প্রস্তুতকারক প্যানেলের সদস্য পি ভি কুলকার্নির কাছ থেকে মাত্র ৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে রসায়নের প্রশ্নপত্র কিনেছিলেন লাতুরের কোচিং সেন্টারের মালিক শিবরাজ রঘুনাথ মোতেগাঁওকর। বুধবার বিশেষ আদালতে মোতেগাঁওকরের জামিনের আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করে সিবিআই-এর পেশ করা রিপোর্টে এই বিস্ফোরক অভিযোগ করা হয়েছে।

আদালতে সিবিআই জানিয়েছে, কেমিস্ট্রির প্রশ্ন ফাঁসের নেপথ্যে ছিল এক গভীর চক্রান্ত। অভিযুক্ত মোতেগাঁওকরের ছেলে খোদ এনটিএ-র প্রশ্ন প্রস্তুতকারক প্যানেলে থাকা পি ভি কুলকার্নির কেমিস্ট্রি টিউটোরিয়াল ক্লাসের ছাত্র ছিল।

সেখান থেকেই মূলত প্রশ্ন পাওয়ার পথ সুগম হয়। তদন্তকারীদের দাবি, "সহ-অভিযুক্তদের সাথে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র করে মোতেগাঁওকর পরীক্ষার আগেই নিটের কেমিস্ট্রির ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রগুলি সংগ্রহ করেছিলেন এবং এর জন্য নগদ ৫ লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন।" এই টাকা হাতবদলের বিষয়টি নিশ্চিত করে সিবিআই জানিয়েছে, অন্য এক সহ-অভিযুক্ত মনোজ ভগবানরাও শিরুরের সূত্র ধরেই সেই ঘুষের টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

সিবিআই আদালতের সামনে সবচেয়ে বড় যে প্রমাণটি পেশ করেছে, তা হলো মোতেগাঁওকরের মোবাইল ফোনের ফরেনসিক রিপোর্ট। তদন্তকারী সংস্থা তাঁর ফোনটি বাজেয়াপ্ত করে সেখান থেকে ৩৬টি ছবি উদ্ধার করেছে (যার মধ্যে ৫টি ডুপ্লিকেট ছবি ছিল)।

এই ছবিগুলিতে মোট ১৩২টি হাতে লেখা কেমিস্ট্রির প্রশ্ন ছিল। ডিজিটাল মেটাডেটা অ্যানালিসিস বা ছবির সময়কাল পরীক্ষা করে সিবিআই জানতে পেরেছে, এই ছবিগুলি গত ৩ মে অনুষ্ঠিত হওয়া নিট পরীক্ষার প্রায় ১০ দিন আগে নেওয়া হয়েছিল। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, মোতেগাঁওকরের নিজের হাতের লেখা এই ১৩২টি প্রশ্নের মধ্যে ১১১টি প্রশ্নই এনটিএ-র তৈরি করা নিট ২০২৬-এর আসল ‘মাস্টার কোশ্চেন সেট’-এর সাথে হুবহু মিলে গেছে।

সিবিআই আদালতে স্পষ্ট জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া হাতে লেখা নোট এবং হোয়াটসঅ্যাপের ছবিগুলি মোতেগাঁওকরের এই প্রশ্নফাঁস চক্রে সরাসরি যুক্ত থাকার অকাট্য প্রমাণ। এই চক্রের শিকড় অনেক গভীরে ছড়ানো। নিট পরীক্ষা কেলেঙ্কারির এই মূল মামলায় সিবিআই এখনও পর্যন্ত মোট ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে, যাঁদের প্রত্যেকেই বর্তমানে আদালতের নির্দেশে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে মোতেগাঁওকরকে জামিন দিলে তদন্ত প্রভাবিত হতে পারে, এই যুক্তিতে তাঁর জামিনের আবেদন খারিজের দাবি জানিয়েছে সিবিআই।