মধ্যপ্রাচ্যে আবারও সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে ইয়েমেনকে কেন্দ্র করে। সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা, হুতি বিদ্রোহীদের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি এবং লোহিতসাগরের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি সৌদি আরব ও ইরানের দীর্ঘদিনের ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে নতুন করে উসকে দিতে পারে।
সাম্প্রতিক উত্তেজনার সূত্রপাত সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে ঘিরে।

ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের দাবি, একটি ইরানি বিমানকে অবতরণে বাধা দিতে বিমানবন্দরের রানওয়েতে হামলা চালানো হয়েছে। তাদের অভিযোগ, ওই বিমানের মাধ্যমে হুতি বিদ্রোহীদের সামরিক সহায়তা পৌঁছানোর আশঙ্কা ছিল।

এর জবাবে হুতিদের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ আল-বুখাইতি সৌদি আরবকে দায়ী করে পাল্টা হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, যদি সানার বিমানবন্দর অচল করে দেওয়া হয়, তবে সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।

এরপর হুতিরা সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার দাবি করে। যদিও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, তারা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সফলভাবে প্রতিহত করেছে।

হুতিরা আরও জানিয়েছে, সানা বিমানবন্দরের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ প্রত্যাহার না করা হলে তারা আরও কঠোর পদক্ষেপ নেবে। পাশাপাশি তেহরান-সানা বিমান যোগাযোগ অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছে তারা।


ইয়েমেনের বর্তমান সংকটের শিকড় এক দশকেরও বেশি পুরোনো। হুতি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা দখলের পর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়। এরপর সৌদি আরবের নেতৃত্বে একটি সামরিক জোট হুতিদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে। রিয়াদের অভিযোগ, হুতিরা ইরানের সমর্থনপুষ্ট একটি প্রক্সি গোষ্ঠী। যদিও হুতিরা নিজেদের ইয়েমেনের বৈধ রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে দাবি করে।

২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর বড় ধরনের সংঘর্ষ কিছুটা কমলেও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে হোদেইদা, মারিব, তাইজ ও আল-জাওফসহ বিভিন্ন এলাকায় আবারও সংঘর্ষ ও সামরিক তৎপরতা বেড়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে।