অবিশ্বাস্য লড়াই, দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন এবং শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়নসুলভ পারফরম্যান্স। পিছিয়ে পড়েও ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন এখন আর মাত্র এক ধাপ দূরে লিওনেল স্কালোনির দলের।

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে ছিল তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। প্রথম মিনিটগুলোতেই এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে ফাউল করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

তবে রেফারির দ্রুত হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

প্রথমার্ধে আক্রমণের চেয়ে শারীরিক লড়াইটাই ছিল বেশি চোখে পড়ার মতো। দুই দল মিলিয়ে মোট ১৯টি ফাউল হয়, যার মধ্যে আর্জেন্টিনা ১২টি এবং ইংল্যান্ড ৭টি ফাউল করে। ৩৫তম মিনিটে বিপজ্জনক একটি ফ্রি-কিক থেকে গোলের সুযোগ তৈরি করলেও দুর্দান্ত সেভ করে দলকে রক্ষা করেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। প্রথম ৪৫ মিনিটে কোনো দলই লক্ষ্যে শট রাখতে না পারায় গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে যায় ম্যাচ।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের চিত্র বদলে যায়। ৫৫তম মিনিটে মরগান রজার্সের নিখুঁত ক্রস থেকে দারুণ হেডে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন অ্যান্থনি গর্ডন। গোল হজমের পর আক্রমণের গতি আরও বাড়িয়ে দেয় আর্জেন্টিনা এবং একের পর এক সুযোগ তৈরি করতে থাকে।

চ্যাম্পিয়নদের চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত ভেঙে পড়ে ইংল্যান্ডের রক্ষণ। আর্জেন্টিনা দুই গোল করে ম্যাচে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় এবং ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে বিশ্বকাপের ফাইনালের টিকিট কেটে নেয়।

এবার শিরোপার লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার সামনে প্রতিপক্ষ স্পেন। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ও ২০১০ সালের বিশ্বজয়ীদের এই মহারণ এখন বিশ্ব ফুটবলপ্রেমীদের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত ম্যাচে পরিণত হয়েছে।