পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: দেশের শীর্ষ আদালতের এজলাসে ঢুকে প্রধান বিচারপতিকে গালিগালাজ করা এবং কাগজ ছুঁড়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ঘটনায় শেষরক্ষা হলো না। মূল অভিযুক্ত আইন ছাত্র প্রবাল প্রতাপ সিং এবং তার সহযোগী চন্দ্র ভানকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ। ধৃতদের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা দেওয়া, আদালতের এজলাসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং সুপ্রিম কোর্টের নিরাপত্তাকর্মীদের হেনস্থা করার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ধৃত দুজনেই উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা এবং আইন বিভাগের ছাত্র। সুপ্রিম কোর্টের তিলক মার্গ থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা-এর একাধিক ধারায় এই মামলা রুজু করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
দিল্লি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ জুলাই ঘটনার পর সুপ্রিম কোর্ট যখন ওই যুবকের প্রতি সহানুভূতিশীল মনোভাব দেখিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত অবমাননার মামলা না করার সিদ্ধান্ত নেয়, তারপরেই পুলিশ আইনি পদক্ষেপ শুরু করে। আদালতের পর্যবেক্ষণের পর পুলিশ দুই অভিযুক্তকে দিল্লির ‘ইনস্টিটিউট অফ হিউম্যান বিহেভিয়ার অ্যান্ড অ্যালাইড সায়েন্সেস’-এ মেডিকেল পরীক্ষার জন্য পাঠায়। সেখানে চিকিৎসকদের মূল্যায়নে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, ধৃত দুজনেই সম্পূর্ণ মানসিকভাবে সুস্থ ও সচেতন। তদন্ত চলাকালীন পুলিশ অভিযুক্তদের কাছ থেকে বেশ কিছু লিফলেট ও প্যামফলেট উদ্ধার করেছে, যেগুলিতে চরম আপত্তিকর ও অশালীন ভাষা লেখা ছিল। গ্রেফতারের পর দিল্লি পুলিশ দুজনকে আদালতে পেশ করলে বিচারক তাদের ২ দিনের পুলিশ রিমান্ডের নির্দেশ দেন।
আরও পড়ুন:
পুলিশের জেরায় জানা গেছে, মূল অভিযুক্ত প্রবাল প্রতাপ সিং উত্তরপ্রদেশের ইটাওয়া জেলার বাসিন্দা এবং সে লখনউ বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের এলএলবি ছাত্র। অন্য অভিযুক্ত চন্দ্র ভান রায়বেরেলি জেলার বাসিন্দা এবং সে দ্বিতীয় বর্ষের আইনের ছাত্র। গত ১০ জুলাই প্রবাল প্রতাপ সুপ্রিম কোর্টে সশরীরে উপস্থিত হয়ে নিজের মামলা নিজে লড়ার সময় আচমকাই নিজেকে "সার্বভৌম" বলে দাবি করে প্রধান বিচারপতিকে লক্ষ্য করে অত্যন্ত আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করতে শুরু করে। এজলাসের ভেতর আদালতের জরুরি নথিপত্র বাতাসে ছুঁড়ে দিয়ে শুনানির পরিবেশ নষ্ট করে সে। সুপ্রিম কোর্টে মোতায়েন থাকা নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে শান্ত করতে এবং আদালতের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এগিয়ে গেলে, সে একজন নিরাপত্তা আধিকারিককে ধাক্কা মারে এবং সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টি করে।