পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: দুর্নীতির বিরুদ্ধে এক বড়সড় অভিযান চালিয়ে হায়দরাবাদ মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি-র প্রধান প্রকৌশলী বি রবীন্দ্রকে গ্রেফতার করল তেলেঙ্গানার অ্যান্টি-করাপশন ব্যুরো (এসিবি)। আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পত্তি অর্জনের অভিযোগে সোমবার রবীন্দ্রর বাসস্থান, অফিস এবং তাঁর আত্মীয় ও সহযোগীদের মালিকানাধীন মোট ১১টি জায়গায় একযোগে ম্যারাথন তল্লাশি চালায় এসিবি। সরকারি খাতায় বাজেয়াপ্ত হওয়া সম্পত্তির মূল্য প্রায় ৯.২৪ কোটি টাকা দেখানো হলেও, বর্তমানে হায়দরাবাদের রিয়েল এস্টেট বাজারের আকাশছোঁয়া দাম অনুযায়ী এই সমস্ত সম্পত্তির প্রকৃত বাজারমূল্য ১০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে বলে ধারণা করছেন তদন্তকারীরা।

তল্লাশি অভিযানে বি রবীন্দ্র এবং তাঁর বেনামদারদের নামে থাকা বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির খতিয়ান পেয়েছে এসিবি। বাজেয়াপ্ত হওয়া সম্পত্তির তালিকায় রয়েছে- রাঙ্গারেড্ডি জেলার কোন্ডাকাল, কিস্তাপুর এবং পাসামাইলায় ৫টি খোলা প্লট।

নারসিঙ্গি এবং নানাকরামগুডায় ৪টি বিলাসবহুল আবাসিক ফ্ল্যাট। শামশাবাদের কাছে গুডুর গ্রামে ৪ একর কৃষিজমি। মোকিলায় ৩০০ বর্গগজের একটি অর্ধসমাপ্ত ভিলা। কোন্ডাপুরের মসজিদ বান্দায় একটি চার তলা বাণিজ্যিক ও আবাসিক ভবন।

স্থাবর সম্পত্তির পাশাপাশি ওই ইঞ্জিনিয়ারের বাড়ি থেকে নগদ ৩.৮২ লক্ষ টাকা এবং ৪৫.০৫ লক্ষ টাকার ব্যাঙ্ক আমানতের নথি উদ্ধার করা হয়েছে।

এছাড়াও তল্লাশিতে ৩৬.৭ লক্ষ টাকা মূল্যের ১.৪৪ কেজি সোনার গয়না, ১০ লক্ষ টাকা মূল্যের ১২.৫ কেজি রুপো, ১৭.২৪ লক্ষ টাকার গৃহস্থালির সামগ্রী এবং ৯.৩২ লক্ষ টাকার ইলেকট্রনিক গ্যাজেট বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। একই সাথে এই সরকারি আধিকারিকের গ্যারেজ থেকে ৪টি বিলাসবহুল চার চাকার গাড়ি উদ্ধার করেছেন তদন্তকারীরা, যার মধ্যে রয়েছে একটি ইনোভা হাইক্রস, টাটা সাফারি, ইনোভা ক্রিস্টা এবং মহিন্দ্রা এক্সইউভি। এই ৪টি গাড়ির সম্মিলিত বাজারমূল্য প্রায় ১.১৬ কোটি টাকা।

এসিবি সূত্রে জানানো হয়েছে, গ্রেফতারের পর অভিযুক্ত সরকারি কর্মকর্তা বি রবীন্দ্রকে আদালতের নির্দেশে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। একজন সরকারি চাকুরিজীবী হয়ে কীভাবে তিনি এত বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সম্পত্তি গড়ে তুললেন, তার উৎস সন্ধানে নেমেছে পুলিশ। এসিবি-র এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, রবীন্দ্রর আরও কোনো অতিরিক্ত সম্পত্তি, সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন কিংবা অন্য কোনো বেনামি সম্পত্তি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত প্রক্রিয়া আরও জোরালোভাবে চালানো হচ্ছে।