বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে ৩-১ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছে সুইজারল্যান্ড। তবে ম্যাচের ফলের চেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে ব্রিল এম্বোলোর লাল কার্ড এবং ফিফার নতুন ভিএআরভিত্তিক ‘মিসটেকেন আইডেন্টিটি’ নিয়ম। ম্যাচ শেষে এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন সুইজারল্যান্ডের প্রধান কোচ মুরাত ইয়াকিন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়াকিনের দাবি, লাল কার্ড দেখানোর আগ পর্যন্ত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল সুইজারল্যান্ডের হাতেই। তার মতে, ওই সিদ্ধান্তই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ইয়াকিন বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত আমার কাছে একেবারেই বোধগম্য নয়।

আমি জানি, ফিফা সবসময় রেফারিদের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করবে। কিন্তু এই নিয়মের প্রয়োগ আজকের ম্যাচের সৌন্দর্যই নষ্ট করে দিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পুরো ম্যাচ বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, আমরা প্রতিপক্ষের চেয়ে ভালো ফুটবল খেলেছি। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে আমার খেলোয়াড়রা অসাধারণ লড়াই করেছে। ১০ জন নিয়েও আমরা শেষ পর্যন্ত হাল ছাড়িনি। কিন্তু ভাগ্য আমাদের পক্ষে ছিল না।

ইয়াকিনের মতে, এম্বোলোর মাঠ ছাড়ার আগ পর্যন্ত সুইজারল্যান্ডই আক্রমণে এগিয়ে ছিল। তিনি বলেন, ‘আমরা তখন জয়ের লক্ষ্যেই আক্রমণাত্মক পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছিলাম। কিন্তু লাল কার্ডের পর ম্যাচের চিত্র পুরো বদলে যায়।’
বিশ্বকাপে প্রথমবার চালু হওয়া নতুন ভিএআর নিয়ম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সুইস কোচ। তিনি বলেন, ‘এই নিয়ম কোথা থেকে এলো, সেটাই বুঝতে পারছি না। নিয়ম যেহেতু আছে, সেটি মানতেই হবে।
কিন্তু এমন গুরুত্বপূর্ণ কোয়ার্টার ফাইনালে এর প্রয়োগ নিয়ে অবশ্যই প্রশ্ন ওঠে।’
রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন ইয়াকিন। তার ভাষায়, ‘এই পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানোর প্রয়োজন ছিল না। অতীতে এমন অনেক ঘটনায় ভিএআর হস্তক্ষেপ করেনি। অথচ এবার রেফারির সিদ্ধান্ত বদলে আমাদের বড় মূল্য দিতে হয়েছে।’
সুইজারল্যান্ডের অভিযোগ, ভিএআরের হস্তক্ষেপের পর ব্রিল এম্বোলো দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। এরপর ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া সুইসরা অতিরিক্ত সময়ে দুটি গোল হজম করে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয়।