বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্য থাকলেও আর্জেন্টিনা দলকে শুধু শিরোপা দিয়ে নয়, লড়াকু মানসিকতার জন্যও স্মরণীয় করে রাখতে চান প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি। তাঁর আশা, ভবিষ্যতে মানুষ আর্জেন্টিনাকে এমন একটি দল হিসেবে মনে রাখবে, যারা কোনো পরিস্থিতিতেই লড়াই ছেড়ে দেয় না।

২০২২ সালে স্কালোনির অধীনেই ৩৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বকাপ জিতেছিল আর্জেন্টিনা। এবার টানা দ্বিতীয় শিরোপার হাতছানি তাদের সামনে। সফল হলে ১৯৬২ সালের পর প্রথম দল হিসেবে পরপর দুটি বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়বে আলবিসেলেস্তেরা
সম্প্রতি এক ১০ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন সমর্থকের আবেগঘন ভিডিও দেখার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে স্কালোনি বলেন, “আমি চাই এই দলটিকে সবাই এমন একটি দল হিসেবে মনে রাখুক, যারা কখনো হাল ছাড়ে না।

আমরা কোচিং স্টাফ ও খেলোয়াড়রা শুধু জয়ের জন্য খেলি না, সমর্থকদের এই ভালোবাসার জন্যও খেলি। হৃদয় থেকে উঠে আসা এমন আবেগ দেখলে সত্যিই ভালো লাগে।”

স্কালোনির মতে, ট্রফি জয়ের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো সমর্থকদের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার মানসিকতা।

চলতি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব অনায়াসে পেরোলেও নকআউট পর্বে কেপ ভার্দে ও মিসরের বিপক্ষে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে আর্জেন্টিনাকে। তবে সব প্রতিকূলতা কাটিয়ে লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, এনজো ফার্নান্দেজদের দল এখন বিশ্বকাপে টানা ১১ ম্যাচ অপরাজিত।

তবে কোয়ার্টার ফাইনালে প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ডকে মোটেও হালকাভাবে নিচ্ছেন না স্কালোনি। তাঁর মতে, গ্রানিত জাকার নেতৃত্বে সুইস দলটি অভিজ্ঞ, শারীরিকভাবে শক্তিশালী এবং যে কোনো প্রতিপক্ষের জন্য কঠিন পরীক্ষা।

আর্জেন্টাইন কোচ বলেন, “বিশ্বকাপে সুইজারল্যান্ডের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাদের দলে অনেক অভিজ্ঞ ও শক্তিশালী ফুটবলার আছে। তাই ম্যাচটি খুবই কঠিন হবে। তারা কলম্বিয়াকে হারিয়ে এসেছে, যারা এই টুর্নামেন্টে দারুণ ছন্দে ছিল।”

কোয়ার্টার ফাইনালের এই বাধা পেরোতে পারলে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হবে ইংল্যান্ড অথবা নরওয়ে।