পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: মুখ্যমন্ত্রী পদে বসার পর প্রথমবার মুর্শিদাবাদ সফরে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি ইস্যুতে কড়া বার্তা দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার বহরমপুরের রবীন্দ্র সদনে আয়োজিত প্রশাসনিক বৈঠক এবং রেজিনগরের তাকিপুর হাই মাদ্রাসা স্কুল মাঠের জনসভা থেকে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, রাজ্যে হিংসার যুগ শেষ, এখন আইনের শাসনই শেষ কথা। আগামী সোমবার থেকেই রাজ্যে কঠোর গুন্ডাদমন আইন চালু হতে চলেছে বলে ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে নাম না করে বিধায়ক হুমায়ুন কবিরকেও নিশানা করেন।

তিনি জানান, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা, বাস বা ট্রেন জ্বালানো এবং পুলিশের গায়ে হাত তোলার মতো ঘটনা আর কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।

নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং পাচার রোধে প্রশাসন এবার থেকে অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। শমসেরগঞ্জ বা ধুলিয়ানের মতো অশান্তির ঘটনা ঘটলে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করে দেন।
এদিনের সভা থেকে নাম না করে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান তথা বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, থানার সামনে গিয়ে জেলে লোক ভরার মতো যে ‘ভাষণবাজি’ করা হচ্ছে, তা যেন অবিলম্বে বন্ধ হয়। কোথাও পুলিশ বা প্রশাসন খারাপ কাজ করলে সরাসরি তাঁকে জানানোর কথা বলেন শুভেন্দু অধিকারী।
মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন হুমায়ুন কবীর। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন শুভেন্দু অধিকারীর নানা অভিযোগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে হুমায়ুন প্রশ্ন তোলেন, মুখ্যমন্ত্রী হয়েই কি তিনি সমস্ত কিছুর ঊর্ধ্বে চলে গেছেন এবং বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করতে চাইছেন? পুলিশ প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন বলেও অভিযোগ করেন ওই বিধায়ক।

সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও এদিন কড়া মনোভাব পোষণ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, মুর্শিদাবাদ জেলায় লক্ষ্মীর ভান্ডার এবং সংখ্যালঘু স্কলারশিপের মতো প্রকল্পে অন্তত ৬০০ জন ভুয়ো উপভোক্তা ধরা পড়েছে।

পাশাপাশি, প্রশাসন থেকে ৩৪টি জাল জন্ম শংসাপত্র দেওয়ার অভিযোগেরও গুরুত্ব সহকারে তদন্ত চলছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার লিঙ্ক এবং কেওয়াইসি সঠিকভাবে যাচাই করতে গিয়েই এই জালিয়াতিগুলি প্রশাসনের নজরে আসছে। 

আগামী দু’মাসের মধ্যে এই তথ্য যাচাইয়ের কাজ সম্পূর্ণ হবে এবং জাল উপভোক্তাদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ করা হবে। এই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত বিডিও বা বিএমওএইচ পদমর্যাদার কোনো সরকারি আধিকারিকরাও যে ছাড় পাবেন না, তা তিনি স্পষ্ট করে দেন। সরকারের কড়া অবস্থানের প্রমাণ হিসেবে আরজি কর কাণ্ডে তিন পদস্থ আইপিএস আধিকারিকের সাসপেন্ড হওয়ার বিষয়টিও তিনি মনে করিয়ে দেন।