পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-আমেরিকা সংঘাতের কারণে টানা কয়েক মাস দ্ধরে অবরুদ্ধ ছিল বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী। যার ফলে ভারতসহ গোটা বিশ্বে জ্বালনির দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। কিছুদিন আগে ডিজেল বিক্রির ক্ষেত্রে একাধিক বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছিল। তবে দুই দেশের শান্তি চুক্তির পর খুলেছে হরমুজ প্রণালী। আর তারপরেই জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা কেটেছে।

এই পরিস্থিতিতে কন্টেনার, ড্রাম বা পাত্রে ডিজেল কেনার ওপর আর আগের মতো কড়াকড়ি থাকছে না। কৃষি, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য জরুরি পরিষেবার স্বার্থে এই বিধিনিষেধ শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। এর ফলে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলি আবার সহজেই পাত্রে করে ডিজেল সংগ্রহ করতে পারবেন। 

এই সিদ্ধান্তের ফলে সমস্যায় পড়েছিলেন কৃষক, হাসপাতাল, খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত মানুষ। সেই পরিস্থিতি বিবেচনা করেই রাজ্য সরকার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ক্ষেত্রকে এই বিধিনিষেধের আওতার বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, জরুরি পরিষেবা এবং রাজ্যের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড যাতে নির্বিঘ্নে চলতে পারে, সেই লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, স্বাস্থ্য পরিষেবা, কৃষিক্ষেত্র, খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা, জনপরিষেবা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং চা বাগানগুলিকে ডিজেল সরবরাহের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে। এই ক্ষেত্রগুলির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি, সংস্থা ও গ্রাহকরা এখন থেকে কন্টেনার বা ব্যারেলে করে ডিজেল সংগ্রহ করতে পারবেন। এছাড়া প্রতিদিন কত পরিমাণ জ্বালানি নেওয়া যাবে, সেই নির্ধারিত সীমাও শিথিল করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের শুধু প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র দেখালেই পেট্রল পাম্প থেকে ডিজেল সংগ্রহ করা যাবে বলে জানানো হয়েছে।

রাজ্য সরকারের দাবি, এই সিদ্ধান্তের ফলে কৃষিকাজ, চিকিৎসা পরিষেবা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবার কাজে আর জ্বালানির অভাবজনিত সমস্যা তৈরি হবে না। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের প্রয়োজনীয় পরিষেবাও স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।